দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা টেস্টিং দ্বিগুণ হলেও আক্রান্ত বৃদ্ধির হার বা কোভিড পজিটিভির রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার তথা কোভিড পজিটিভিটি রেট একটা সীমাতেই আটকে গেছে বলে জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। নতুন রিপোর্টে চেন্নাইয়ের ইনস্টিটিউট অব ম্যাথেমেটিকাল সায়েন্স (আইএমএসসি)জানিয়েছে, কোভিড পজিটিভি রেট একটা নম্বরেই আটতে থাকার কারণ হতে পারে দেশের
‘এফেকটিভ রিপ্রোডাকশন নম্বর’ বা ‘আর’ নম্বরেরও (R Value) বিশেষ কোনও পরিবর্তন না হওয়া। গত সপ্তাহে এই আর নম্বর ছিল ১.১৩। এ সপ্তাহে সামান্যই কমে পৌঁছেছে ১.১২ নম্বরে।
আইএমএসসি-র গবেষক সীতাভ্র সিনহা বলেছেন, আর নম্বর কমলে দেশে করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যাও কমবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের হিসেবে, আজ শুক্রবার দেশে করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৮৯ হাজার। যদি আর নম্বর ১-এর নীচে নেমে যায়, তাহলে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা কমে যাবে। কিন্তু যদি এই নম্বর একটা জায়গাতেই আটকে থাকে, তাহলে আগামী ৪ জুলাইয়ের মধ্যে দেশে করোনা সক্রিয় রোগীর সংখ্যা আড়াই লাখে পৌঁছে যাবে।
আর নম্বর হল এমন একট গাণিতিক হিসেব যার দ্বারা সংক্রমণের হার মাপা হয়। একজন করোনা রোগীর থেকে কতজন সংক্রামিত হচ্ছেন এবং সেই সংখ্যার হিসেবে সংক্রমণের হার কতটা বাড়ছে সেটা হিসেব করা হয় এই নম্বর দিয়ে। দেশে করোনা সংক্রমণের হার বোঝাতে শুরুতে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)
‘আর-নট’ (R Naught/ R0) বা
রিপ্রোডাকশন নম্বরের (Reproduction Number) নম্বরের কথা বলেছিল। ‘আর-নট’ হল এমন একটা স্কেল যার মাত্রা ধরা হয় ১.৫ থেকে ৪.০। কম থেকে যত বেশির দিকে যাবে, সংক্রমণ বৃদ্ধির হার ততটাই বাড়বে। আইসিএমআরের হিসেবে, রিপ্রোডাকশন নম্বরের স্কেল যদি ২.৫ থেকে শুরু করা যায়, তাহলে দেখা যাবে একজন সংক্রামিত সামাজিক দূরত্বের বিধি না মানলে ৩০ দিনে ৪০৬ জনকে আক্রান্ত করতে পারবেন। এই হিসেবই এখন আর নম্বর (R)দিয়ে মাপা হচ্ছে।
অধ্যাপক সীতাভ্র বলছেন, কনট্যাক্ট ট্রেসিং অর্থাৎ আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসাদের যদি দ্রুত চিহ্নিত করা না যায় তাহলে আর নম্বরের মাত্রাও কমবে না। এই ‘আর’ নম্বর তিনটি ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। প্রথমত, একজন করোনা পজিটিভ রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তির মধ্যে সংক্রমণ ছড়াবার ঝুঁকি কতটা, দ্বিতীয়ত, আক্রান্ত ও সংক্রমণের সন্দেহে থাকা ব্যক্তিরা কতজনের সংস্পর্শে আসছেন তার গড় হিসেব, তৃতীয়ত, একজনের থেকে সংক্রমণ কতজনের মধ্যে ছড়াচ্ছে এবং কতদিনে সেই হিসেব। একমাসে এই আর নম্বর ১.২২ থেকে কমে ১.১৩-তে পৌঁছেছিল, অথচ এখন দেখা যাচ্ছে এই মাত্রার সামান্য পরিবর্তন হয়েছে। লকডাউন শিথিল হওয়ার পরে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং যদি না মেনে চলা হয় তাহলে এই আর নম্বর বাড়তেই থাকবে এবং অ্যাকটিভ করোনা রোগীর সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়বে। অধ্যাপকের কথায়, জার্মানি একমাসে আর নম্বর ১.০৬ থেকে বেড়ে ২.৮৮-তে পৌঁছেছে। সেখানে সংক্রমণ বৃদ্ধির হারও বেড়েছে। ভারতে আর নম্বর কমলেও খুবই সামান্য, একটা জায়গাতেই থিতু হয়ে রয়েছে। এমন চলতে থাকলে জুলাইয়ের প্রথমেই করোনা অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।