দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষে দিনভর উত্তাল ছিল রাজধানী। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (ক্যাব) বিরোধিতায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ জানাচ্ছিলেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। তখনই পুলিশি আক্রমণের মুখে পড়েন তাঁরা। চলে কাঁদানে গ্যাস, করা হয় লাঠিচার্জ। উল্টো দিকে পুলিশের অভিযোগ, প্রতিবাদের নামে ছাত্রছাত্রীরা মাত্রা ছাড়ানোর কারণেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য কড়া পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয় তারা। অভিযোগ, পড়ুয়ারা প্রতিবাদের নামে আগুন ধরিয়ে দেয় বাসে, ভাঙচুর চালায় যানবাহনে।
কিন্তু রবিবার রাত গড়াতেই ঘটনাস্থলের দু’টি ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। একটিতে দেখা যায়, ছাত্র-পুলিশ সংঘর্ষ চলাকালীন কিছু বাসে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে খোদ পুলিশই! আবার অন্যটিতে দেখা যায়, অবাধে ভাঙচুর চালাচ্ছে সেই পুলিশ নিজেই।
প্রথম ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরেই নেটিজেনরা দেখতে পান, একটি পাত্র থেকে কিছু তরল বাসের গায়ে ছড়িয়ে দিচ্ছেন খোদ পুলিশকর্মীরা। তার পরেই অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে বাসগুলিতে। পড়ুয়াদের দাবি, তাঁদের বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি যাতে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে, যাতে তাঁদের উপর দোষ চাপানো যায়, সে জন্যই ইচ্ছাকৃত ভাবে এই কাজ করেছে পুলিশ।
দেখুন ভিডিও।
https://www.facebook.com/prasenjit.bose.908/videos/1015036598850255/
অন্য দিকে অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এক সময়ে বড় আকার নিলে সংঘর্ষ বাঁধে ছাত্র-পুলিশের। পরিস্থিতি সামলাতে কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে প্রশাসন। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, তখনই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একাধিক বাইকে ভাঙচুর চালায় পুলিশ। সেই পুলিশি তাণ্ডবই ধরা পড়েছে দ্বিতীয় ভিডিওয়।
ভিডিও দু’টি দেখে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছেন ছাত্রছাত্রীরা। ঘনিয়েছে উষ্মাও। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশ নিজেই অরাজকতা সৃষ্টি করে পরিস্থিতি ঘোরালো করে ফেলতে চাইছে, যাতে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও জোরদার হয়।
দেখুন বাইক ভাঙার ভিডিও।
https://www.facebook.com/anzar.alam.1044/videos/2423236537787595/
তিন দিন আগে থেকেই এই অশান্তির সূত্রপাত। ক্যাবের বিরোধিতায় শুক্রবার থেকে আন্দোলনে নামেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার পড়ুয়ারা। রবিবার তা চরম আকার ধারণ করে। এদিন নিউ ফ্রেন্ডস কলোনিতে প্রথমে পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। মথুরা রোড-সহ একাধিক রাস্তা অবরূদ্ধ হয়ে যায় বিক্ষোভের জেরে। যান চলাচলের উপরে তীব্র প্রভাব পড়ে। কয়েক হাজার মানুষের বিক্ষোভে প্রায় স্তব্ধ হয়ে যায় রাজধানী। পরিস্থিতি সামাল দিতে নাকানিচোবানি খেতে হয় পুলিশকে।
রবিবার সন্ধেয় বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশের রাজধানী। রীতিমতো সহিংস রূপ পায় গোটা আন্দোলন। কিন্তু এই ঝামেলা চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিও দু’টি দেখে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একজন পুলিশ কর্মী নিজেই একটি ফাঁকা বাসে কেরোসিনের জার থেকে কোনও তরল ছুঁড়ছেন।
দিল্লির উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া টুইট করে নিন্দা করেছেন পুলিশের এই ভূমিকার। তিনি লেখেন, "এই ছবিটি দেখুন। দেখুন কে বা কারা বাসে এবং গাড়িতে আগুন দিচ্ছে। এই ছবিটি বিজেপির করুণ রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ। বিজেপি নেতারা এর প্রতিক্রিয়ায় কী বলবেন?" দেখুন সেই টুইট।
https://twitter.com/msisodia/status/1206211852675342337
যদিও পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। উল্টে তারা দাবি করেছে, পুলিশ মোটেও কেরোসিন ছেটাচ্ছিল না, জল দিয়ে নেভানোর চেষ্টা করছিল আগুন। অভিযোগ, তখন নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর থেকে ছাত্রছাত্রীরা পাথর ছুড়ছিলেন পুলিশকে লক্ষ্য করে।
শেষমেশ লাঠিচার্জ থেকে কাঁদানে গ্যাস— বাদ পড়েনি কিছুই। রাস্তায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও শুরু হয়ে যায় পুলিশের। এর পরে উত্তেজনা আরও বাড়ে। বিকেলে পুলিশের তাড়া খেয়ে ছাত্ররা ঢুকে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে।
এর পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু ‘বহিরাগত’কে এদিন গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, এদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে প্রথমেই প্রধান ফটকগুলি বন্ধ করে দেয় পুলিশ। তার পরেই গ্রেফতার করে কিছু বহিরাগতকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে চিফ প্রোক্টর ওয়াসিম আহমেদ খানের অভিযোগ, “পুলিশ বাহিনী ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে কোনও অনুমতি ছাড়াই। আমাদের কর্মী এবং ছাত্রদের মারধর করা হচ্ছে। তাদের ক্যাম্পাস ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।”
সূত্রের খবর, ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ইতিমধ্যেই বাতিল হয়েছে পরীক্ষা। সে পরীক্ষা কবে হবে, সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাননি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।