দ্য ওয়াল ব্যুরো : গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে ১০ জন। খাটের ওপরে শুয়ে আছেন এক বৃদ্ধা। তিনিও শ্বাসরুদ্ধ হয়েই মারা গিয়েছেন। কিন্তু সেই বাড়ির দরজা হাট করে খোলা।
গত রবিবার দিল্লির বুরারি অঞ্চলে গণ আত্মহত্যার ঘটনায় সাড়া পড়ে গিয়েছে দেশে।
ঘটনার তদন্তে নেমে এখনও কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে ওই খোলা দরজা।
কেন খোলা ছিল দরজা? বাড়িশুদ্ধু সকলে যদি আত্মহত্যাই করবে, তা হলে যথাসম্ভব গোপনে, বাড়ির দরজা বন্ধ করেই তো গলায় দড়ি দেওয়া উচিত ছিল।
এখানে দুরকম থিওরি শোনা যাচ্ছে।
হয়তো বাড়ির লোকেরা ভেবেছিল, যে মুহূর্তে তারা গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়বে, তখনই কোনও অলৌকিক শক্তি প্রবেশ করবে বাড়িতে। সে সবাইকে রক্ষা করবে। তার আশীর্বাদে সব জাগতিক জ্বালাযন্ত্রণা থেকে রেহাই পাবে ১১ জন। সেই মহাশক্তি যাতে বাড়িতে ঢুকতে পারে, সেজন্যই দরজা খোলা রাখা হয়েছিল।
দ্বিতীয় থিওরি হল, গণ আত্মহত্যার আগে কোনও বাইরের লোক ঢুকেছিল বাড়িতে। সবাই মারা যাওয়ার পরে নিঃশব্দে বেরিয়ে গিয়েছে সে।
এতদিন তদন্তকারীরা ভাবছিলেন, বাড়ির ছোট ছেলে ললিত ভাটিয়া বাকিদের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছিল। কিন্তু ওই খোলা দরজার রহস্য সমাধান করতে গিয়ে মনে হচ্ছে তা নাও হতে পারে।
আত্মঘাতী ১১ জন যে অলৌকিক কিছুতে বিশ্বাস করত সে বিষয়ে পুলিশ নিঃসন্দেহ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালে ওই পরিবারের কর্তা মারা যান। তাতে বাড়ির সকলে ভেঙে পড়ে। সবচেয়ে বেশি আঘাত পেয়েছিলেন ললিত। কিছুদিন পর থেকে ললিতের মনে হতে থাকে, বাবা তাঁর সঙ্গে পরলোক থেকে যোগাযোগ করছেন।
বাড়িতে ললিতের হাতে লেখা অনেক নোট ছড়িয়ে আছে। তা থেকে তদন্তকারীরা এমন সিদ্ধান্তে এসেছিলেন। কিন্তু পরে আর একটি এমন নোট পাওয়া গিয়েছে, যাতে বদলে যেতে বসেছে পুলিশের ধারণা। মনে হচ্ছে, ললিত বাদে হয়তো এমন কেউ বাড়িতে যাতায়াত করত যার ওপরে বাড়ির সকলের ছিল অগাধ বিশ্বাস। সে-ই ১১ জনকে বলেছিল, গলায় দড়ি দিলে তোমরা আনন্দময় জীবনে প্রবেশ করবে।
বুরারির ওই অভিশপ্ত বাড়ির দরজার কাছে কেন ১১ টি পাইপ ঝুলছিল, তাও এখনও বুঝতে পারেননি তদন্তকারীরা। অনেকে বলছেন, পুরো ব্যাপারটাই আপতিক। ওর সঙ্গে গণ আত্মহত্যার সম্পর্ক নেই।
বাকিরা বলছেন, বাড়িতে আত্মহত্যা করেছেন ১১ জন, পাইপের সংখ্যাও ১১। সাতটি পাইপ বাঁকানো। চারটি সোজা। বাড়িতে ছিলেন সাত জন মহিলা ও চার জন পুরুষ। সুতরাং ব্যাপারটা আপতিক নাও হতে পারে। হয়তো পাইপগুলোর সঙ্গে আত্মহত্যার কোনও সম্পর্ক আছে।