Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

বুদ্ধবাবু চেন স্মোকার ছিলেন, বাঁধিয়েছিলেন সিওপিডি! ঠিক কী হয় এই রোগে

ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ অর্থাৎ COPD-- ফুসফুসের এই অসুখ বহু বছর ধরে সঙ্গী ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর।

বুদ্ধবাবু চেন স্মোকার ছিলেন, বাঁধিয়েছিলেন সিওপিডি! ঠিক কী হয় এই রোগে

বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।

শেষ আপডেট: 8 August 2024 18:24

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ অর্থাৎ COPD-- ফুসফুসের এই অসুখ বহু বছর ধরে সঙ্গী ছিল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর। প্রথমে হাল্কা কাশি, অল্প শ্বাসকষ্ট। এর পরে বুকের ভেতর দলা পাকানো একটা ব্যথা। কাশির দমক বাড়লে শ্বাসের সমস্যাও চাগিয়ে ওঠা। এই ধরনের নানাবিধ সমস্যা নিয়ে বহু বছর কাটিয়েছেন তিনি। এবং দীর্ঘ রোগভোগের পর অবশেষে মৃত্যু।

স্মোকিং ডিজিজ বাঁধিয়েছিলেন বুদ্ধবাবু (COPD patient Buddhadeb Bhattacharjee)

সিওপিডি-র নানা কারণ আছে। তবে প্রথম ও প্রধান কারণ ধূমপান। সেই কারণেই একে ‘স্মোকিং ডিজিজ’ও বলা হয়। এই অভ্যেস বরাবরই ছিল বুদ্ধবাবুর। চেন স্মোকার ছিলেন তিনি। কাজে থাকলে বা বাড়িতে, ঘনিষ্ঠরা বলতেন, কখনওই সিগারেট ছাড়া দেখা যেত না তাঁকে। শুভাকাঙ্ক্ষীদের বহু অনুরোধেও কখনও বন্ধ করেননি ধূমপান। পছন্দের ব্র্যান্ড ছিল '৫৫৫'। পরিবার সূত্রের খবর, একটু বয়স হওয়ার পরে প্রায়ই বুকে ঘনঘন কফ জমে যাচ্ছে তাই অবস্থা হতো। সর্দি-কাশি হলে কমতেই চাইত না। অল্প ঠান্ডা লাগলেই নাক বন্ধ, কাশির বেগ যেন বুক ঠেলে উঠতে চাইত।

জানা গেছে, ২০০৯ সালে চিকিৎসকরা রীতিমতো নিদান দিয়েছিলেন, ছাড়তেই হবে সিগারেট। ফুসফুসের যা অবস্থা হয়েছে, তাতে আর কোনও উপায় নেই। তবে সে কথাও শোনেননি বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। বলেছিলেন, চেষ্টা করলে একটু কমাতে পারবেন, আর কী করা যেতে পারে জানতে চেয়েছিলেন, তবে পুরোপুরি সিগারেট ছাড়া অসম্ভব বলেই জানিয়ে দিয়েছিলেন।

তবে ২০১৭ সালে এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েন, অবশেষে ধূমপান ছেড়েছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কারণ ততদিনে শ্বাসের সমস্যা ক্রমশ বদলে গেছিল ক্রনিক শ্বাসকষ্টে। সিগারেট ধরিয়ে টানার ক্ষমতা ছিল না। এক সময় প্রয়োজন হয়েছিল কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের। বেশ কয়েকবার অসুবিধা হওয়ার পরে ২০১৮ সালে বাড়িতেই পোর্টেবল অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করা হয় বুদ্ধবাবুর জন্য। ২৪ ঘণ্টাই নাকে লাগানো থাকত সেই অক্সিজেনের নল। অর্থাৎ গত প্রায় ৫ বছর ধরে স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাস নিতেই পারেননি তিনি।

COPD বারবারই ভুগিয়েছে তাঁকে

এর মধ্যেই তিন বছর আগে, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে বুদ্ধদেববাবুকে উডল্যান্ডস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এই সিওপিডির সমস্যা তীব্র হওয়ায়। ৬ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। পরের বছর, ২০২১ সালের মে মাসে ফের কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন বুদ্ধবাবু ও তাঁর স্ত্রী। প্রথম দিকে তাঁকে বাড়িতেই বাইপ্যাপের মাধ্যমে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছিল। পরে অক্সিজেন স্যাচুরেশন আরও কমে যাওয়ায় ফের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়। কয়েক দিন কাটিয়ে সুস্থ হয়ে ফেরেন তিনি।

কেন হয় COPD

চিকিৎসকরা বলছেন, ফুসফুসের এই রোগ, সিওপিডি-কে হেলাফেলা করা মানেই বিপদ ডেকে আনা। এখন সিওপিডির (COPD) সমস্যা প্রায় ঘরে ঘরে পৌঁছে গেছে। তবে স্মোকিং বা প্যাসিভ স্মোকিং ছাড়াও সিওপিডির অন্যতম বড় কারণ বায়ু দূষণও। বাতাসে অতি সূক্ষ্ম ভাসমান কণার পরিমাণ (পিএম ২.৫) সহনশীলতার মাত্রা ছাড়ালেই তার ভয়ঙ্কর প্রভাব পড়ে ফুসফুসে। ক্ষতিকর রাসায়নিক কণা, ধুলো, ধোঁয়া লাগাতার শ্বাসনালী দিয়ে ভেতরে ঢুকে শ্বাসযন্ত্রকে অচল করে দিতে থাকে। যার ফল ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ তথা সিওপিডি।

কী কী লক্ষণ দেখে সাবধান হবেন (COPD)

  • সিওপিডি (COPD) হওয়া মানেই ফুসফুসের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে শুরু করে।
  • ক্রমাগত কাশি, রাতে কাশির দমকে ঘুম ভেঙে যাওয়া প্রায়ই হয়।
  • সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে হলে বুকে চাপ ধরে।
  • মাঝেমাঝেই শ্বাসকষ্ট, বিশেষ করে রাতে ঘুমোতে গেলে হঠাৎ করে শ্বাস বন্ধ হয়ে এই রোগের লক্ষণ।
  • বুকে ঘনঘন কফ জমে সর্দি-কাশি হতে পারে, সেখান থেকেও শ্বাসকষ্টে ভুগতে পারে রোগী।
  • এমন সব লক্ষণ ক্রনিক হয়ে গেলে সাবধান হতে হবে।

সঠিক ডায়েট, নিয়মিত শরীরচর্চায় ফুসফুস সতেজ থাকে

এমনিতেই আজকালকার সেডেন্টারি লাইফস্টাইলে সুষম ডায়েটের অভাবে রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমছে। যে কোনও রোগই বড় চেহারা নিয়ে ধরা পড়ছে।

  • শরীরকে ভেতর থেকে শক্তপোক্ত করতে হলে খাওয়াদাওয়ার দিকে নজর দিতেই হবে।
  • একবারে ভরপেট না খেয়ে, দিনে ছোট ছোট কয়েকটা মিল জরুরি।
  • ফল, সবুজ শাকসব্জি, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে রোজকার মেনুতে। দিনে ৪-৫ লিটার জল খাওয়া জরুরি।
  • প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট সময় রাখতে হবে শরীরচর্চার জন্য। ফ্রি-হ্যান্ড, ডিপ ব্রিদিং অতি অবশ্যই করতে হবে।
  • নিয়মিত হাঁটা স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। এতে দম বাড়বে। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়বে।

ওষুধ খান নিয়ম মেনে

  • পালমোনারি ফাংশন টেস্ট করে বোঝা যায় সিওপিডি (COPD) কোন পর্যায় রয়েছে। সেই মতো ওষুধ দেওয়া হয় রোগীদের। সিপিডির রোগীদের অতি অবশ্যই ওষুধ নিয়ম করে খেতে হবে।
  • লং অ্যাকটিং অ্যান্টিকলিনার্জিক ইনহেলার ব্যবহার করতে হলে তা সঙ্গে রাখতে হবে।
  • প্রয়োজন হলে প্রতি বছর ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়া জরুরি।
  • বিশেষ করে নিউমোকক্কাল নিউমোনিয়া প্রতিষেধক নিতে হবে নিয়ম করে।
  • অনেক সময় ওষুধে কাজ না করলে রোগ বাড়াবাড়ির পর্যায়ে গেলে কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্রের সাহায্য নিতে হয়।
  • অক্সিজেন থেরাপিও জরুরি। এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। ফুসফুসকে সক্রিয় রাখতেই এই থেরাপি করা হয়।

```