দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের হাপুরে নৃশংস ঘটনায় অভিযুক্ত হল তিন পুলিশকর্মী, যাদের একজন ডিএসপি পদাধিকারী। ছেলেকে বাইরে বসিয়ে বছর ৩৫-এর এক যুবককে এমন অত্যাচার করে যে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। তার পরেও ওই তিন অভিযুক্তের কাউকেই গ্রেফতার করা হয়নি। রাজধানী দিল্লি থেকে ঘটনাস্থলের দূরত্ব ১০৭ কিলোমিটার।
মাস দেড়েক আগে এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। সেই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গৃহবধূর স্বামীর আত্মীয় প্রদীপ তোমরকে হাপুরের একটি ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। অভিযোগ, কয়েকজন পুলিশকর্মী থানার মধ্যে প্রদীপ তোমরকে অত্যাচার করে। তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রদীপের আত্মীয়দের অভিযোগ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্মম ভাবে মারধর করা হয় প্রদীপকে, তাতেই প্রদীপের অবস্থা খারাপ হয়ে যায়। পুলিশের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, প্রদীপের ১০ বছরের ছেলের হাতে একটা চিপসের প্যাকেট ধরিয়ে সারারাত তাকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল, তাকে টুঁ শব্দটিও না করতে শাসিয়ে গিয়েছিল পুলিশকর্মীরা।
প্রদীপের ছেলের বয়ান অনুযায়ী, একটি টোল ট্যাক্সের বুথ থেকে পুলিশ তাদের তুলে নিয়ে যায়, তারপর চরম খারাপ ব্যবহার করতে থাকে পুলিশ। তার বাবাকে মারাত্মক ভাবে নিগ্রহ করা হয় এবং বিদ্যুতের শক দেওয়া হয়। প্রদীপকে লাঠি দিয়ে প্রচণ্ড পেটানো হয় এবং একই সঙ্গে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খোঁচানো হতে থাকে। প্রদীপের ছেলের কথায়, “ওরা আমার মুখে বন্দুক ঢুকিয়ে দিয়ে শাসায় যাতে আমি একদম মুখ বন্ধ রাখি। কিছুক্ষণ পরে পুলিশের একটা লোক এসে আমার হাতে চিপসের প্যাকেট দিয়ে আমাকে বাইরে বের করে দিল। সারাক্ষণ ওরা আমার বাবাকে মারধর করে যাচ্ছিল।”
অভিযোগ, ওই পুলিশকর্মীরা মদ খেয়ে মত্ত অবস্থায় ছিল।
প্রদীপের একটি ভিডিয়ো করে রেখেছেন তাঁর বাড়ির লোকজন। সেখানে প্রদীপের দেহে রক্তের দাগ তো ছিলই, স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে খোঁচানোর দাগ ও লাঠির আঘাতের ছবিও ছিল।
হাপুর পুলিশের প্রধান যশবীর সিং সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন, সার্কেল অফিসার সন্তোষ সিং, এসএইচও যোগেশ বলীয়ান, সাব ইন্সপেক্টর অজব সিং ও আরও একজনের নামে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন) ও ৩২৩ ধারায় (মারধর/হামলা) মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিন পুলিশকর্মীর মধ্যে ইতিমধ্যে দু’জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন যশবীর সিং।
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিব ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের প্রধানকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন চিঠি দেওয়ায় পুলিশ এই পদক্ষেপ করেছে।
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a7%87/