ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে অসমে রেললাইনের ধারে উদ্ধার কোচবিহারের পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ। মৃত্যু ঘিরে স্বাভাবিক নয় বলে পরিবারের দাবি, শুরু রাজনৈতিক চাপানউতর।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 January 2026 12:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে শোরগোল। ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার এক পরিযায়ী শ্রমিকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে মৃত্যু কোচবিহারের এক যুবকের। অসমে রেললাইনের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর দেহ। পরিবার স্পষ্ট দাবি করেছে, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, খুন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতরও শুরু হয়েছে।
মৃতের নাম হিমাঙ্কর পাল (Himankar Pal), বয়স ৩৫। বাড়ি কোচবিহার জেলার শীতলকুচির কুশরামারি গ্রামে। রবিবার অসমের গোয়ালপাড়া (Goalpara) এলাকায় রেললাইনের পাশ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৮–১০ বছর ধরে অরুণাচল প্রদেশে (Arunachal Pradesh) রঙের কাজ করতেন হিমাঙ্কর। কিছু দিন আগে বাড়ি ফিরলেও গত বৃহস্পতিবার ফের কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে রওনা দেন। সেখানে কাজ না মেলায় পর দিনই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
পরিবারের দাবি, ফেরার পথে বাবার সঙ্গে শেষবার ফোনে কথা হয় হিমাঙ্করের। মৃতের বাবা নীতীশ পাল (Nitish Pal) জানান, ছেলে ফোন করে বলেছিল, গাড়ির চালক ওকে মারছে, টাকাও চাইছে। সেই কথা শুনে পরিবারের তরফে তৎক্ষণাৎ টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু কেন চালক মারধর করছিল, তা এখনও পরিবারের কাছে স্পষ্ট নয়। বাবার আরও দাবি, চালকের মোবাইল থেকেই ওই ফোন করেছিলেন হিমাঙ্কর। রবিবার সকালে পুলিশ ফোন করে জানায়, তাঁর ছেলের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। খবর পেয়েই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যেরা।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, হিমাঙ্কর ছিলেন পরিবারের মেজো ছেলে। পরিবারের অভিযোগ, এই মৃত্যুর জন্য গাড়ির চালকই দায়ী। পাশাপাশি তাদের অভিযোগ, ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বারবার বাঙালিরা হেনস্থার শিকার হচ্ছেন, প্রাণও যাচ্ছে। এই ঘটনায় শীতলকুচি থানায় (Sitalkuchi Police Station) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে। ইতিমধ্যেই মৃতদেহ আনতে পরিবারের সদস্যেরা অসমের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের কাছে জোরালো আবেদন জানানো হয়েছে।
খবর পেয়ে মৃতের বাড়িতে পৌঁছন তৃণমূলের (Trinamool Congress) অঞ্চল সভাপতি চন্দন প্রামাণিক (Chandan Pramanik)-সহ দলের পদাধিকারীরা। চন্দনের অভিযোগ, “বিজেপি শাসিত অসম (BJP-ruled Assam)-এ বাঙালি বলেই হিমাঙ্করকে অত্যাচার করে খুন করা হয়েছে। ভিন্রাজ্যে একের পর এক বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যু কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
যদিও এই অভিযোগ মানতে নারাজ বিজেপি। দলের জেলা সভাপতি উৎপল দাস (Utpala Das) বলেন, “রাজ্যে চাকরি নেই বলেই মানুষ বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কাজ করতে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। কেন রাজ্যে কাজ নেই, তা না দেখে তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে ভ্রান্ত অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।”
উল্লেখ্য, গত ১৬ জানুয়ারি, ঝাড়খণ্ডে কাজে গিয়ে খুন হন বেলডাঙার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ (Alauddin Sheikh)। পরিবারের দাবি ছিল, তাঁকে খুন করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন আলাউদ্দিন। ভাড়ার ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেলডাঙায় শুরু হয় তীব্র অশান্তি। রেল ও পথ অবরোধের বিক্ষোভ পরে হিংসাত্মক রূপ নেয়। সেই সময় একাধিক সাংবাদিকও আক্রান্ত হন।