
শেষ আপডেট: 5 February 2024 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে সংশোধনাগার থেকে প্রকাশিত সাময়িকীর দায়িত্ব সামলানো, অন্যদিকে বর্ধমানবাসীকে মুগ্ধ করেছে সম্প্রতি ‘শ্যামা’ নৃত্যনাট্যে তাঁর নাচ। যেন কারার অন্তরালেই চলছে উত্তরণের পর্ব! প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বামীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত সেই মনুয়ার আচরণে খুশি সংশোধনাগারের আধিকারিকেরাও। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত মনুয়া মজুমদার প্যারোলে মুক্তি পেলেন। ছ'ঘণ্টার জন্য বাড়িতে গেলেন ।
স্বামীকে খুনের ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয় মনুয়ার। ২০২১ সাল থেকে বর্ধমান সংশোধনাগারে রয়েছেন তিনি। তাঁর জামিনের আবেদন আগেই খারিজ হয়ে গিয়েছে। তবে এবার সংশোধনাগারে ভাল ব্যবহারের জন্য সোমবার দুপুরে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পেলেন মনুয়া। ছ’ঘণ্টার জন্য বাইরে বেরোনোর অনুমতি পান অনুপম সিংহ হত্যাকাণ্ডের আসামি। অসুস্থ মাকে দেখতে কয়েক ঘণ্টার জন্য এদিন বাড়ি আসার অনুমতি পেলেন মনুয়া। এতবছর পর মেয়েকে কাছে পেয়ে খুশি পরিবার।
বর্ধমানের সংশোধনাগার থেকে সোমবার মনুয়াকে উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাত থানায় আনা হয়। তারপর পুলিশি পাহারায় দুপুর দু'টোয় তাঁকে বারাসতের নবপল্লীতে তাঁর বাপের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন পুলিশ ভ্যানে ওঠার সময় সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা মনুয়ার দিকে হাজারো প্রশ্ন ছুড়ে দেন। সাংবাদিকদের ক্যামেরা দেখে ওড়না দিয়ে মুখ ঢাকেন আলোড়ন ফেলে দেওয়া হত্যাকাণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত আসামি।
২০১৭ সালের ২ মে। বারাসতের হৃদয়পুরে নিজের বাড়িতেই খুন হন একটি বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় সংস্থায় কর্মরত অনুপম সিংহ। পরের দিন দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুরু হয় তদন্ত। খুনের ১৩ দিনের মাথায় বারাসত থেকে মনুয়া মজুমদার (সিংহ) এবং তার প্রেমিক অজিতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, অজিতের সঙ্গে মনুয়ার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই অনুপমকে নৃশংসভাবে খুন করে অজিত।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছিল, অনুপমের মাথায় ভারী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে খুন করা হয়েছিল। খুনের দিন তাঁর স্ত্রী মনুয়া বাপের বাড়িতে থাকলেও ঘটনার সময় প্রেমিক অজিতের মোবাইলে ফোন করে অনুপমের আর্তনাদ শুনেছিল। লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মাথা থেঁতলে খুন করা হয় অনুপমকে। ঘটনাটি সাড়া ফেলে দিয়েছিল গোটা রাজ্যে।
২০২১ সালে বর্ধমান সংশোধনাগারে আসার পরেই মনুয়ার মধ্যে প্রতিভার বিচ্ছুরণ দেখতে পেয়েছিলেন আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, সংশোধনাগারে মনুয়ার ভাল আচরণে খুশি হয়েই তাঁকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।