
শেষ আপডেট: 26 February 2024 17:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সন্দেশখালির মহিলাদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা। তাঁর দাবি, কলকাতা থেকে টাকার বিনিময়ে সন্দেশখালিতে লোক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁরা প্রথমে ঘোমটা দিয়ে কথা বললেও পরে নাকি সিগারেট খাচ্ছেন। বিধায়কের এমন মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠল গোটা রাজ্যে।
তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে মহিলাদের শ্লীলতাহানি-ধর্ষণ-ফসলের জমি দখল করে সমদ্রের জল ঢুকিয়ে ভেড়ি তৈরি-ইত্যাদি একরাশ অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে সন্দেশখালি। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি নিয়ে রাজ্য পুলিশের ডিজিকেও দু-দু'বার আসতে হয়েছে এখানে। মানুষকে বোঝাতে সন্দেশখালি গেছেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী সুজিত বসু ও পার্থ ভৌমিক। রীতিমতো রোষের মুখে পড়তে হয়েছে তাদেরও।
এই পরিস্থিতিতেই ভাঙড়ের শানপুকুরে তৃণমূলের একটি সভা থেকে শওকত বললেন,“এটা আমি শপথ করে বলতে পারি, সন্দেশখালি নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হচ্ছে তার ৯০ শতাংশ মিথ্যা। পাঁচ হাজার, দশ হাজার, কুড়ি হাজার টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করা হচ্ছে। এদের কেউ কেউ ঘোমটা দিয়ে কথা বলছেন। পরে দেখা যাচ্ছে এরাই সিগারেট খাচ্ছে।” সন্দেশখালির বিক্ষোভের পিছনে সিপিএম ও বিজেপি-র হাত রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। শওকত বলেন, “বলা হচ্ছে এত দিন ধরে ওই এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। তাহলে কেউ ফোনে একটাও ছবি তোলেনি? আসলে সিপিএম ও বিজেপির নেতারা উস্কানি দিচ্ছেন।”
এর আগে সন্দেশখালির মহিলাদের ‘বহিরাগত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তা নিয়ে অস্বস্তিতেও পড়তে হয় দলের নেতাদের। সন্দেশখালিতে রাজ্যের দুই মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক ও সুজিত বসুকে সামনে পেয়ে মহিলারা প্রশ্ন করেন, কেন দিদি তাঁদের বহিরাগত বলেছেন। শওকতের বেফাঁস মন্তব্যেও ফের অস্বস্তিতে দল।
শওকতের মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়েছে। বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক বিকাশ সর্দার বলেন, “২০২১ নির্বাচনের পর সওকতের নেতৃত্বাধীন দুষ্কৃতী বাহিনী ভাঙড়ে অকথ্য অত্যাচার চালিয়েছে। বিজেপি কর্মীদের বাড়ি ভাঙচুর করেছে। এখন এই সব মন্তব্য করে আন্দোলনের মোড় ঘোরাতে চাইছেন।”, আইএসএফ জেলা পরিষদ সদস্য বলেন, “আজ যে তৃণমূল নেতারা জেলে যাচ্ছেন, কালকে তো ছাড়া পাবেন। তখন কী হবে? প্রাণের ভয়েই মহিলারা ঘোমটা দিচ্ছেন। আর সিগারেট খাওয়া একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার।”