দ্য ওয়াল ব্যুরো : সাম্প্রদায়িক হিংসা নিয়ে অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে কিছুদিন আগেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মন্তব্য করেছিলেন, ভারতে সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার। ভারত থেকে অনেকে বলেছিলেন, ইমরান আগে নিজের দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনুন। পরে ভারত নিয়ে বলবেন। তার পরেও পাকিস্তানের জনক মহম্মদ আলি জিন্নার জন্মদিনে ফের ভারতের সংখ্যালঘুদের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন ইমরান। তাঁর দাবি, জিন্না বহুদিন আগেই বুঝেছিলেন, ভারতে সংখ্যালঘুদের কখনও সমান অধিকার দেওয়া হবে না।
তিনি টুইট করেন, জিন্না বুঝেছিলেন, ভারতে হিন্দুরা সংখ্যাগুরু। সেখানে মুসলিমরা কখনও সমান অধিকার পেতে পারে না। সেজন্য তিনি পৃথক রাষ্ট্রের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত করব যাতে পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা সমান অধিকার লাভ করেন। ভারতে যা ঘটছে তা এখানে কখনও হবে না।
https://twitter.com/ImranKhanPTI/status/1077478982478639104
পাকিস্তানের পাঞ্জাবে সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে লাহোরে এক সভায় ইমরান ভাষণ দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যাতে যথাযথ অধিকার পান, সেজন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে আমার সরকার। মহম্মদ আলি জিন্নাও তাই চেয়েছিলেন। আমরা দেখব যাতে সংখ্যালঘুরা এদেশে নিরাপদ বোধ করেন।
নাসিরুদ্দিন শাহ এক সাক্ষাৎকারে বুলন্দশহরের হিংসা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, আমাদের দেশের অনেক জায়গায় পুলিশকর্মীর চেয়ে গরুর জীবনের দাম বেশি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। তার পরেই ইমরান মন্তব্য করেন, আমি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দেখিয়ে দেব, সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে হয়। এরপরে নাসিরুদ্দিন স্বয়ং বলেন, ইমরান যা বলছেন তা কাজে করে দেখানো উচিত। অন্যের দেশের ব্যাপারে তাঁর কথা বলার অধিকার নেই। আমাদের দেশে ৭০ বছর ধরে গণতন্ত্র আছে। আমরা জানি কীভাবে দেশ চালাতে হয়।
ইমরানের বিরুদ্ধে মুখ খোলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ। তিনি টুইটারে লেখেন, পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মের সময় থেকে সেখানে জনসংখ্যায় সংখ্যালঘুদের অনুপাত কমে গিয়েছে। পাকিস্তানের জন্মের সময় সেদেশে সংখ্যালঘুরা ছিল ২০ শতাংশ। এখন তারা মাত্র দুই শতাংশ। অন্যদিকে ভারতে সংখ্যালঘুদের অনুপাত লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে।
নাসিরুদ্দিনের মন্তব্যের পরে নবনির্মাণ সেনা নামে এক সংগঠন পাকিস্তানের ওয়ান ওয়ে টিকিট কেটে তাঁকে পাঠিয়ে দেয়। বিজেপি কটাক্ষ করে, তাঁর কথাবার্তা পাকিস্তানের এজেন্টের মতো।