
শেষ আপডেট: 28 May 2020 08:12
এবার সেই রুখে দেওয়ার রুদ্ধশ্বাস দৃশ্যও সামনে এল। ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, চেক পোস্টে একটি সাদা গাড়িকে দাঁড়াতে বলেন নিরাপত্তারক্ষীরা। কারণ আগাম খবর পেয়েই তাঁদের সন্দেহ ছিল, ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগিয়ে এসেছে গাড়িটি। সন্দেহের অবসান ঘটে, যখন গাড়িটি না থেমে গতি বাড়িয়ে পালানোর চেষ্টা করে।
সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী গাড়িটির উদ্দেশে গুলি ছুড়তে শুরু করে। চালক নেমে পালিয়ে যায় গাড়ি ফেলে। কিন্তু গাড়িটি থেকে ৪০-৪৫ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে, যা থেকে কত বড় বিপদ ঘটত, ভেবেই শিউরে উঠছেন সকলে। ওই বিস্ফোরকের সঙ্গে লাগানো ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইসটিও বিকল করে বম্ব ডিসপোসাল স্কোয়াড।
এই সময়ের একটি ভিডিওয় দেখা গেছে, বিকল করার সময়ে বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে গাড়িটিতে। গোটা এলাকা ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আশপাশের বেশ কিছু বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগে থেকেই অবশ্য বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। দেখুন ভিডিও।
https://twitter.com/ANI/status/1265869848132718593
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের ডিরেক্টর ইন জেনারেল দিলবাগ সিং বলেন, "গাড়িটির উপর সারা রাত নজর রেখেছিলাম আমরা। আগে থেকেই এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছিল যাতে কেউ ঘরে না থাকেন। সবরকম পরিকল্পনা করেই গাড়িটি আটকে নষ্ট করা হয় বিস্ফোরক। অনেক বড় বিপদ ঘটত নইলে।"
জম্মু কাশ্মীর পুলিশ, সেনা ও আধা সামরিক বাহিনী যৌথ ভাবে এই অভিযান চালিয়েছিল। আগাম গোয়েন্দা তথ্যগুলি মাথায় রেখেই এই সাফল্য পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। বিস্ফোরক-বোঝাই সাদা রঙের প্রাইভেট গাড়িটি নিয়ে আগেই সতর্কতা ছিল।
গত মাসেই পুলওয়ামায় বিশেষ সেনা অপারেশনে মারা গিয়েছে হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ডার রিয়াজ নাইকু। সেনা কর্তাদের অনেকের মতে, নাইকুকে খতম করার পর জঙ্গিদের তরফ থেকে পাল্টা হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নিরাপত্তা বাহিনীও এ ব্যাপারে সর্বদাই সতর্ক রয়েছে।
গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে এরকমই এক আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় নিহত হয়েছিলেন ৪০ জনেরও বেশি ভারতীয় জওয়ান। সারা দেশ ফেটে পড়েছিল ক্ষোভে। সেবারেও গোয়েন্দাদের কাছে আগাম খবর ছিল বলে অভিযোগ তুলেছিলেন অনেকে। এবার আর কোনও অভিযোগের সুযোগ নেই। হামলার আগেই সন্ত্রাসীদের খেল খতম করল বাহিনী।