
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী।
শেষ আপডেট: 12 September 2024 23:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারাধিন বিষয়ে এভাবে লাইভস্ট্রিমিং করা যায় না বলে বৃহস্পতিবার সন্ধেয় নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রাতে মুখ্যমন্ত্রীর ওই দাবি নসাৎ করে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, "নবান্নের সভাঘরে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল তার সঙ্গে আদালত অবমাননার কোনও সম্পর্ক নেই। পুরোটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাটক, লাইভস্ট্রিমিংয়ে আসলে ওনার মুখোশ খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল।"
আরজি করের আন্দোলরত জুনিয়র চিকিৎসকদের সঙ্গে এদিন নবান্নে বৈঠক করার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তিনি ছোট ছোট ডাক্তার ভাই-বোনেদের সঙ্গে দেখা করার জন্য ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট অপেক্ষাও করেছিলেন। কিন্তু বৈঠকের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের দাবিতে অনড় থেকে তাঁরা বৈঠকে যোগ দেননি।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন এই অভিযোগও করেন, "আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকে বৈঠক করতে চেয়েছিল। কিন্তু বাইরে থেকে নির্দেশ এসেছিল বৈঠকে যোগ না দেওয়ার জন্য।" এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, এ ব্যাপারে বিরোধীদেরই নিশানা করে থাকতে পারেন মমতা।
এব্যাপারে আন্দোলনকারীরা পরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে প্রশ্ন তোলেন, 'নবান্নের প্রতিটি বৈঠক তো লাইভ স্ট্রিমিং হয়। সুপ্রিমকোর্টের শুনানির ক্ষেত্রেও লাইভ দেখা যায়। তাহলে এক্ষেত্রে করা হল না কেন?"
রাতে আন্দোলনকারীদের এই প্রশ্নকে ১৬ আনা সমর্থন জানিয়ে নবান্নের দুটি ছবি পোস্ট করে টুইটে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা।
মুখ্যমন্ত্রী যে ঘরে বসে অপেক্ষা করছিলেন, সেই ছবি সরকার প্রকাশ করলো আদালতকে প্রভাবিত করতে।
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) September 12, 2024
লাইভস্ট্রিমিংয়ের সাথে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের কোনো সম্পর্ক নেই। সুপ্রিমকোর্টের শুনানি তো লাইভস্ট্রিমিংয়ের মাধ্যমে সারা দেশ দেখছে।
নবান্নের সভাঘরে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল তার সাথে আদালত… pic.twitter.com/f2FWZr18Oo
শুভেন্দুর অভিযোগ, 'আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই চান না এই অচলাবস্থা কাটুক। পরবর্তী শুনানির আগে রাজ্যের উকিল কপিল সিব্বলের হাতে ভুয়ো যুক্তির অস্ত্র তুলে দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নানা কৌশল অবলম্বন করছেন। মুখ্যমন্ত্রী 'সিমপ্যাথি কার্ড' ব্যবহার করছেন এই বলে যে বৈঠক হলে নাকি নির্যাতিতার জন্য নীরবতা পালন করতেন, অথচ বিধানসভায় অপরাজিতা বিল আনার সময়ে নির্যাতিতার জন্য কোনো শোকপ্রস্তাব ছিল না।'
এখানেই শেষ নয়, বিরোধী দলনেতা টুইটে এও লিখেছেন, 'মুখ্যমন্ত্রী আসলে লাইভ স্ট্রিমিং করতে ভয় পেয়েছিলেন এই ভাবনা থেকে যে প্রাথমিক পুলিশি তদন্তে যে ফাঁকফোকর রয়েছে, তদন্তের নামে প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা ও তাড়াহুড়ো করে দেহ দাহ করা হয়েছে, এই সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন উঠলে উনি জবাব দিতে পারতেন না।"