
শেষ আপডেট: 4 February 2024 22:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে কী মিথ্যা মামলা? তাই কি নির্যাতিতা দিনের পর দিন আদালতের সাক্ষী এড়িয়ে যাচ্ছেন? সম্প্রতি কাঁথি আদালতের একটি মামলায় এমনই প্রশ্ন উঠেছে। শুধু তাই নয়, বিষয়টিতে ক্ষুদ্ধ বিচারক মামলা চলাকালীন আদালত অবমাননার দায়ে তরুণীর বিরুদ্ধেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
সম্প্রতি ছাত্রনেতা শুভদীপ গিরির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছিল কাঁথি আদালতে। পকসো আইনে গ্রেফতার করা হয়েছিল ছাত্রনেতাকে। বেশ কিছুদিন আগে শর্তসাপেক্ষ জামিন পেয়েছেন তিনি। এদিকে মামলাটিতে দিনের পর দিন আদালতে সাক্ষ্যদানে হাজির হননি যুবতী। আর সেই কারণেই ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত। শনিবার কাঁথি আদালতের ফাস্ট ট্রাক ফাস্ট কোর্ট (পক্সো) বিচারক অজেন্দ্র নাথ ভট্টাচার্য যুবতীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। আদালত সূত্রের খবর, মামলা করার সময়ে নাবালিকা থাকলেও বর্তমানে 'নির্যাতিতা' সাবালিকা।
তরুণীর বাবা জানিয়েছেন, অসুস্থ থাকার কারণে তাঁর মেয়ে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। কিন্তু একটি-দুটি নয়, আটটি সাক্ষীর দিনই আদালতে হাজির হননি তরুণী। এরপর সাক্ষ্যদানে নির্যাতিতার পক্ষে অসুস্থতার সার্টিফিকেট আদালতে জমা করার পর বিচারকের মনে তৈরি হয় সন্দেহ। সার্টিফিকেটের গরমিল সন্দেহ করেই তরুণীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। শুধু তাই নয়, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য কাঁথি মহিলা থানার আইসিকে নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক।
২০২৩ সালের ১০ জানুয়ারি ছাত্রনেতা শুভদীপ গিরির বিরুদ্ধে কাঁথি মহিলা থানায় ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করেন ওই নাবালিকার পরিবার। তারপরে কাঁথি আদালতে আত্মসমর্পণ করে ছাত্রনেতা শুভদীপ গিরি। প্রথমে পুলিশে হেফাজত, জেল হেফাজতের পর কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে জামিনে মুক্তি পান অভিযুক্ত। ছাত্র নেতার পরিবারের সদস্য থেকে আত্মীয় পরিজনদের দাবি, মিথ্যা মামলায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে।
নির্যাতিতার বাবা বিজেপি করার কারণেই ছাত্রনেতা শুভদীপের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মামলা সাজানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কাঁথি শহর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সুরজিৎ নায়ক। অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় বিজেপি নেতা কনিষ্ক পণ্ডা জানিয়েছেন, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। ঘটনার সঙ্গে কোন রাজনীতির যোগ নেই।