দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন নিয়মকানুনকে সরাসরি বুড়ো আঙুল দেখানো। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ রীতিমতো উপেক্ষা করেই কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের হেরিটেজ বিল্ডিং ডেভিড হেয়ার ব্লকের সামনেই তৈরি হচ্ছে একটি ঘর। বিশেষজ্ঞদের মতে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং নিয়মবিরুদ্ধ।
অভিযোগ উঠেছে, শতবর্ষ-প্রাচীন ডেভিড হেয়ার ব্লকের মূল প্রবেশপথ সম্পূর্ণ ভাবে ঢেকে দিয়ে তৈরি হচ্ছে এই বিল্ডিং। হেরিটেজ বিল্ডিংয়ের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী যা সামনে থেকে দেখা যায়, এক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ ভাবে চোখের আড়ালে চলে গিয়েছে।
পুরসভা সূত্রের খবর, সেখান থেকেও কোনও রকম হেরিটেজ সংক্রান্ত অনুমতি নেওয়া হয়নি। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের একাধিক কর্তা জানান, তাঁরা বিষয়টির বিরোধিতা করলেও তা মানা হয়নি। এই প্রসঙ্গে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের প্রাক্তনী তথা রবীন্দ্র পুরস্কার প্রাপ্ত চিকিৎসক, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ইতিহাস গবেষক ও ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ শংকর নাথ বলেন, "এই কাজ একেবারেই উচিত হয়নি। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ভিতরে বেশিরভাগ বিল্ডিংই হেরিটেজ। সে কথা মাথায় রেখেই ভিতরের যে কোনও নির্মাণ কাজ করা উচিত।"
তিনি আরও জানান, এই ব্লকটির ১৯১০ সালে এই ব্লকটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল। ১৯২১ সালে ব্লকটির উদ্বোধন হয় সার্জারি বিল্ডিং হিসেবে। প্রথমে এই হাসপাতালের নাম ছিল প্রিন্স ওয়েলস হাসপাতাল। ১৯৭৬ সালে নাম পরিবর্তন করে করা হয় ডেভিড হেয়ার ব্লক। এই ব্লকের সৌন্দর্যই যে আলাদা, তা পুরনো ছবি দেখলেই বোঝা যায়। এমন ঐতিহ্যকে সম্পূর্ণ ভাবে আড়াল করে ফেলে কোনও নির্মাণ কাজই করা উচিত হয়নি। হেরিটেজ নিয়মের বিরুদ্ধে এ কাজ করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি দেখার জন্যও অনুরোধ করেন তিনি।
মেডিক্যাল কলেজের এক কর্তা বলেন, "বিষয়টি রোগী কল্যাণ সমিতি ও পিডব্লিউডি বলতে পারবে।"
বিতর্কের মধ্যেও নির্মাণ কাজ অবশ্য চলছেই। ডেভিড হেয়ার ব্লকের যে গাড়ি বারান্দা খোলা থাকলেও সুন্দর ভাবে দেখা যেত, তা সম্পূর্ণ ভাবে ঢাকা পড়ে গিয়েছে। কারণ বিল্ডিংয়ের দেওয়াল থেকে মাত্র তিন ফুট দূরে রয়েছে নির্মীয়মাণ ওই পাওয়ার রুমের দেওয়াল।