দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাদাখে সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সেনা মোতায়েন করে চলেছে চিন। অন্যদিকে, ভারত-পাক সীমান্তে নিয়ন্ত্রণরেখায় লাগাতার সংঘর্ষবিরতি ভেঙে চলেছে পাকিস্তান। সেই সঙ্গে শীতের আগেই নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা চলছে ভারতে। পাক গোলাগুলি থেকে সীমান্তে সুরক্ষার জন্য সাত হাজারের বেশি কংক্রিটের বাঙ্কার তৈরি করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। জম্মু-কাশ্মীরের পাঁচটি জেলায় নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর তৈরি হয়েছে বাঙ্কার।
২০১৭ সালেই নিয়ন্ত্রণরেখা ও আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর বাঙ্কার তৈরির কথা বলেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সে জন্য অর্থও বরাদ্দ হয়। জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসন সূত্রে খবর, নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ৭,৭৭৭টি কংক্রিটের বাঙ্কার তৈরি হয়ে গেছে, এর মধ্যে ৯৩৮টি কমিউনিটি বাঙ্কার।
জম্মুর ডিভিশনাল কমিশনার সঞ্জীব বর্মা বলেছেন, পাক সেনাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র সীমান্তের সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালানো নয়, সীমান্ত পারের গ্রামগুলিকেও নিশানায় রেখেছে পাক বাহিনী। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গ্রামগুলিতে পাক গোলাগুলির কারণে বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়। প্রাণহানির ঘটনা ঘটে প্রায়দিনই। তাই সীমান্তে সুরক্ষার জন্যই বাঙ্কার তৈরির কথা ভাবা হয়। সঞ্জীব বর্ম বলেছেন, সাম্বা জেলায় ১৫৬৯টি, জম্মুতে ১১৬১টি, কাঠুয়ায় ১৫১৯টি, রাজৌরিতে ২৬০৩টি ও পুঞ্চে ৯২৫টি বাঙ্কার তৈরি হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। স্টিল ও সিমেন্টের তৈরি বাঙ্কার পাক গোলার থেকে সীমান্তপারের বাসিন্দাদের সুরক্ষা দেবে বলে জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সেনা বাঙ্কার থেকে পাক বাহিনীর হামলার জবাবও দিতে পারবে ভারতীয় সেনারা।
ভারতীয় সেনার সেনার ১৫ নম্বর কোরের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল বি এস রাজু আগেই বলেছিলেন, পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গিরা জম্মু-কাশ্মীরে ঢোকার চেষ্টা চালালে যোগ্য জবাব দেবে ভারতীয় বাহিনী। সীমান্তে দিন-রাত কড়া পাহারা দিচ্ছে জওয়ানরা। সন্ত্রাসবাদীদের নিয়ন্ত্রণরেখা পার করিয়ে দিতে লাগাতার সংঘর্ষ বিরতি ভেঙে চলেছে পাক সেনারা। জানুয়ারি থেকে অগস্টের মধ্যে অন্তত ২৪২ বার গোলাগুলি চলেছে নিয়ন্ত্রণরেখায়। পয়লা জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৮৬ বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে সীমান্তে। রাজু বলেছেন, পাক বাহিনীকে মোক্ষম জবাব দিতে নতুন স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হয়েছে সীমান্তে। তার একটি হল আরও বেশি সংখ্যক সেনা মোতায়েন করা, অন্যটি সেনা বাঙ্কার তৈরি।
নিরাপত্তা আরও মজবুত করতে নতুন করে সেনা পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে। নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ৩৪৩.৯ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সেনার সংখ্যা প্রায় তিনগুণ করা হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর তিনটি ব্যাটেলিয়ন দিবারাত্র সীমান্তে নজর রেখে বসে আছে। সেনাদের হাতেও রয়েছে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। রাতের অন্ধকারে চোরাগোপ্তা পথে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উন্নতমানের ক্যামেরা ও সেন্সর বসানো হয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করলে সঙ্গে সঙ্গেই টের পেয়ে যাবেন সেনা জওয়ানরা। রাতের অন্ধকারে চোরাগোপ্তা পথে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে উন্নতমানের ক্যামেরা ও সেন্সর বসানো হয়েছে। একাধিক আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর। কোনওভাবে জঙ্গিরা সীমান্ত পেরোবার চেষ্টা করলেই এফোঁড় ওফোঁড় করে দেবে গুলি।