
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 16 December 2024 21:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শিশুদের স্কুলের খেলার মাঠ দখল করে নির্মাণের অভিযোগে মামলা গড়িয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। ওই মামলাতে সোমবার কড়া নির্দেশ দিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু।
আদালতের নির্দেশ, অবিলম্বে পুলিশকে ওই নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে হবে। খেলার মাঠের আগের অবস্থা ফিরিয়ে দিতে হবে জেলা প্রাথমিক স্কুল কাউন্সিলকে। আদালতের নির্দেশ কার্যকর হয়েছে, এই মর্মে রাজ্যকে রিপোর্ট দিতে হবে বলে জানায় হাইকোর্ট।
ঘটনাটি পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের মানিকপুর প্রাথমিক স্কুলের। সংশ্লিষ্ট স্কুলের খেলার মাঠ দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে মামলা করেছিলেন এক অভিভাবক।
ওই অভিভাবকের অভিযোগ, "তাঁর মেয়ে ওই স্কুলে পড়াশোনা করে। স্কুল লাগোয়া খেলার মাঠ বন্ধ করে নির্মাণ হচ্ছে। ফলে শিশুরা খেলার জায়গা থাকবে না।"
কেন্দ্রের শিক্ষার অধিকার আইনের কথা উল্লেখ করে মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং গোপা বিশ্বাস আদালতে বলেন, প্রত্যেকের স্কুলের সঙ্গে খেলার মাঠ থাকা জরুরি। প্রায় ৫০ বছর ধরে ওই মাঠ রয়েছে। এখন হঠাৎ কী প্রয়োজনে ওই মাঠ দখল করে নির্মাণ হচ্ছে। আইনমাফিক ওই কাজ হচ্ছে না।
জেলা প্রাথমিক স্কুল কাউন্সিলের আইনজীবীও আদালতকে জানান, সেখানে খেলার মাঠ থাকা দরকার। ওই স্কুলের জায়গাটির জন্য বিএলআরও-কে নির্দেশ দেওয়া হোক। স্কুল মাঠে নির্মাণের কোনও কাজ হওয়া উচিত নয়।
রাজ্যের আইনজীবীর আদালতে জানান, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র অন্য জায়গা থেকে সরিয়ে ওখানে নিয়ে আসা হবে। তাই সেখানে নির্মাণ করা হচ্ছে।
যা শুনে বিচারপতির পাল্টা প্রশ্ন, "আপনারা কী ভাবে এটা করতে পারেন? অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সঙ্গে প্রাথমিক স্কুলের কী সম্পর্ক? নিজেদের নীতি পরিবর্তন করুন। কেন এ ভাবে নির্মাণ করতে হবে?" এরপরই কাজ বন্ধ করে স্কুলের খেলার মাঠকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।
আদালত সূত্রের খবর, প্রায় ৭০ বছর আগে স্কুল এবং খেলার মাঠ তৈরির জন্য স্থানীয় এক ব্যক্তি মৌখিকভাবে ওই জায়গা দান করেছিলেন। সম্প্রতি ওই গ্রামের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য অশোক মাইতি সেখানে খেলার মাঠ নষ্ট করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছিল।