
শেষ আপডেট: 17 October 2023 14:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কীভাবে কোন রসায়নে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস হঠাৎ সরকারের প্রতি নরম হলেন এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনা হল, বিধায়ক-মন্ত্রীদের বেতন বৃদ্ধি সংক্রান্ত যে বিলে অনুমোদন দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্যপাল সময় নিচ্ছিলেন, সেই পর্ব শেষ হয়েছে। সরকারের আনা বিলে সোমবার রাতে সম্মতি দিয়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল আনন্দ বোস। শুধু তা নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তা জানিয়েও দিয়েছেন তিনি।
ওই বিলটি পাশ করানোর জন্য সরকার সোমবার একদিনের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিল। কিন্তু যেহেতু সেটি অর্থবিল, তাই রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়া তা পাশ করানো সম্ভব ছিল না। রাজ্যপাল সই না করায় সোমবার বিধানসভা অধিবেশন ভেস্তে যায়।
তবে বিকেলে এক চমকপ্রদ ঘটনা উজ্জ্বল হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতিতে। তা হল, সন্তোষ মিত্র স্কোয়ারের পুজো উদ্বোধনে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। সেই অনুষ্ঠানে রাজ্যপালকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বরং তখন রাজ্যপাল আবার দেখা করার সময় দিয়েছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে। কুণাল রাজ্যপালের ক্ষুরধার সমালোচক। ভর দুপুরে গরমের মধ্যে রাজ্যপাল বোস কীভাবে বন্ধ-গলা কোট পরে ঘোরেন সেই নিয়েও কটাক্ষ করতে কুণাল ছাড়েননি। সেই কুণালকে রাজ্যপাল ডেকে সময় দেওয়ায় অনেকেই বিষ্মিত হন।
এর আগে ওনাম উৎসবের সময় কুণালকে প্রচুর মিষ্টি পাঠিয়েছিলেন বোস। রাজনৈতিক ভাবে কুণাল রাজ্যপালের প্রতি মিষ্টি-মুখ নন। তার জন্য অবশ্য সেই মিষ্টি পাঠাননি। তা ছিল নেহাতই সৌজন্য। কুণালও আবার সোমবার বাছা বাছা মিষ্টি নিয়ে গিয়েছিলেন রাজভবনে।
সেই রসে রসায়নের বদল হল কিনা কেউ জানে না। তবে দেখা গেল, রাতেই নরম অবস্থান নিয়েছে রাজভবন। সই করে দিয়েছে সরকারের আনা বিলে।