দ্য ওয়াল ব্যুরো : সম্প্রতি ফরাসি তদন্তমূলক সাংবাদিকতার ওয়েবসাইট 'মিডিয়াপার্ট'-এ প্রকাশিত হয়েছে, ফ্রান্সে রাফায়েল নিয়ে তদন্ত করার জন্য নিযুক্ত হয়েছেন একজন বিচারক। অভিযোগ, ভারতের সঙ্গে ৫৯ হাজার কোটি টাকার রাফায়েল চুক্তিতে দুর্নীতি ও স্বজনপোষণ হয়েছিল। অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে এসম্পর্কে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ফ্রান্সে। একথা জানাজানি হওয়ার পরে ভারতেও তদন্তের দাবি তুলেছে কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীরই তদন্তের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া উচিত। সরকার যৌথ সংসদীয় কমিটি তৈরি করুক। সেই কমিটি তদন্ত করে দেখুক, রাফায়েল চুক্তিতে কোথাও অনিয়ম হয়েছে কিনা।
কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালা এদিন সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, "রাফায়েল চুক্তিতে যে দুর্নীতি হয়েছিল, তা এখন পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। ফরাসি সরকার এসম্পর্কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এতদিনে বোঝা গেল কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীর অবস্থান সঠিক ছিল।"
সুরজেওয়ালা বলেন, রাফায়েল চুক্তির সঙ্গে দেশের সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্নটি জড়িত। তাই যৌথ সংসদীয় কমিটির তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
গত এপ্রিলে ফরাসি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, রাফায়েল ডিলে অর্থ পেয়েছে এক সন্দেহভাজন মধ্যস্থতাকারীর কোম্পানি। তাঁকে ২০১৯ সালেই গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট বলা হয়েছে, রাফায়েল যুদ্ধবিমানের নির্মাতা সংস্থা দাসো এভিয়েশান একসময় দেফসিস সলিউশনস নামে এক সংস্থাকে ১০ লক্ষ ইউরো অর্থাৎ প্রায় ৮৬২ কোটি টাকা দিয়েছিল। দেফসিস এভিয়েশানের মালিক হলেন এক মিডলম্যান। এই ধরনের বেহিসেবি অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর আইন আছে ফ্রান্সে। এখন দাসো এভিয়েশয়ানকে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন তারা দেফসিস সলিউশানকে ওই অর্থ দিয়েছিল।
ফরাসি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দাসো এভিয়েশনের হিসাবপত্র অডিট করে জানা যায়, ২০১৬ সালে ভারতের সঙ্গে রাফায়েল চুক্তি সই হওয়ার পরেই দাসো ওই মিডলম্যানকে ১০ লক্ষ ইউরো দিতে সম্মত হয়। ওই মিডলম্যানের বিরুদ্ধে অপর একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে টাকা তছরুপের অভিযোগ আছে।
দাসো জানিয়েছে, রাফায়েল জেটের ৫০ টি মডেল তৈরি করার জন্য মিডলম্যানের সংস্থাকে টাকা দেওয়া হয়েছিল। যদিও কোনও মডেল তৈরি হয়েছে বলে প্রমাণ মেলেনি। ফ্রান্সের যে সংস্থাটি রাফায়েল চুক্তিতে এই সন্দেহজনক লেনদেনের কথা প্রকাশ্যে এনেছে, তার নাম এএফএ। বড় কোম্পানিগুলি দুর্নীতিতে প্রশ্রয় দিচ্ছে কিনা, সেদিকে নজর রাখার জন্য ২০১৭ সালে ওই সংস্থা তৈরি হয়। তার কাজের ধরন অনেকাংশে ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের মতো। কিন্তু এএফএ ইচ্ছা করলে বেসরকারি সংস্থার হিসাবপত্রও পরীক্ষা করতে পারে।