
শেষ আপডেট: 15 May 2023 04:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের ভোটের (karnataka election) প্রচারে এবার অনেকটা জায়গা জুড়ে ছিল বজরংবলী (Bajrangbali)। তবে সেটা ছিল প্রচারে বিজেপির মনোপলি। হনুমানের কাটআউট, পোস্টার, ব্যানারে ছেয়ে দিয়েছিল পদ্মশিবির। বিজেপির (BJP) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি হয়ে উঠেছিল বজরংবলীময়।
ভোট মিটতে এখন ভিন্ন ছবি। কর্নাটক কংগ্রেসের (Congress) যাবতীয় দফতর তো বটেই, নেতারাও বজরংবলী-সহ ছবি টুইট করছেন। তাতে নানা কথার মূল বিষয় হয়, কর্নাটকে কংগ্রেস বজরংবলীকে বিজেপির হাত থেকে উদ্ধার করেছে।
দলের সর্বভারতীয় পার্টির ওয়েরসাইটে জ্বল জ্বল করছে বজরংবলীর মূর্তির সামনে রাহুল গান্ধীর দু’পাশে সিদ্দারামাইয়া ও ডিকে শিবকুমারের ছবি। ফল ঘোষণার পর রাতারাতি ফটোশপে বজরংবলীর সঙ্গে নেতাদের অসংখ্য ছবি তৈরি করে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে হাত-শিবির। কর্নাটকে দলের বিজয় মিছিল, পার্টি অফিস ও নেতাদের বাড়ির সামনের দাঁড়িয়ে থাকা ভিড়ে হনুমান সেজে আসা লোকেরা সংখ্যায় বাড়ছে। কংগ্রেসের দফতরের সামনে হনুমানের মুখ আঁকা মুখোশ, হনুমান চালিসার বিক্রি তুঙ্গে। বজরংবলীকে নিয়ে ফল ঘোষণার পর কংগ্রেস শিবিরের ছবিটা বদলে গিয়েছে।

শুধু কর্নাটকই নয়, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, হিমাচলপ্রদেশ, তেলেঙ্গানাতেই কংগ্রেস সামাজিকমাধ্যমে বজরংবলীকে নিয়ে প্রচার শুরু করেছে। এই সব রাজ্যেও কংগ্রেসের নেতারা অনেকেই কর্নাটকের জয়ে বজরংবলীর মন্দিরে পুজো দিয়ে সমাজমাধ্যমে ছবি পোস্ট করেছেন।
কর্নাটকে ভোট মিটে যাওয়ার পর কংগ্রেস বজরংবলীকে নিয়ে এমন কর্মসূচি কেন নিল তা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। আসলে ওই রাজ্যের ভোটে কংগ্রেসের ইস্তাহারে বলা হয়, দল ক্ষমতায় এলে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের যুব শাখা বজরং দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হবে। কংগ্রেসের এই ঘোষণাকেই বিজেপি বজরংবলীর অপমান বলে পাল্টা প্রচার করেছিল। তাতে নেতৃত্ব দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর জনসভা, রোড-শো’র চেহারা রাতারাতি বদলে যায়। বজরংবলীর নামে জয়ধ্বনী দিয়ে সভা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেসের বহু নেতাই একান্তে মানছেন, বজরংবলী নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমীকরণ ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর বজরংবলী কেন্দ্রিক প্রচারে লাভ হয়েছে কংগ্রেসের। দল তাই বজরংবলীর প্রতি কৃতজ্ঞ তো বটেই।

ভোটের সময় প্রচারে কংগ্রেস এই বিষয়ে বিজেপিকে খুব একটা পাল্টা আক্রমণে যায়নি দলের নির্বাচনী কৌশল মাথায় রেখে। কারণ, কংগ্রেসের বাইরে থাকা অকংগ্রেসি উদারবাদী ভোটারদের কাছে টানতেই হাত শিবির বজরং দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করে ইস্তাহারে।
কংগ্রেস মহলের ব্যাখ্যা, ভোট মিটতে দল দুটি কারণে পরিকল্পনা করেই বজরংবলীকে আঁকড়ে ধরেছে। প্রথমত, আগামী নির্বাচনগুলিতে বিজেপি যাতে বজরংবলীকে সামনে রেখে প্রচারে দাপট দেখাতে না পারে। দ্বিতীয়ত, কর্মী সমর্থকদের কাছেও কংগ্রেস বার্তা দিচ্ছে দল নির্বাচনে বজরংবলীর মতো ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহার চায় না বটে। কিন্তু দেব-দেবতা, ধর্মের সঙ্গে দলের কোনও বিরোধ নেই। কংগ্রেস হিন্দু বিরোধী নয়। তাই বজরংবলীকে নিয়ে কংগ্রেসের কোমর বেঁধে প্রচারের মূল লক্ষ্য হল মানুষের মনে এই ধারণা তৈরি করা যে বজরংবলীকে পুজো শুধু বিজেপি নেতারাই করেন না।

আবার একই সঙ্গে রাহুল গান্ধীর বেঁধে দেওয়া কথাই কর্নাটকের বিজয়ের মূল কারণ বলে কংগ্রেসের যাবতীয় সমাজমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। রাহুল বলেছেন, কর্নাটকবাসী ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। যেমন ছত্তীশগড় কংগ্রেস বজরংবলীর ছবি পোস্ট করে লিখেছে, ‘কর্নাটকের ফল বুঝিয়ে দিল এ দেশে ঘৃণা ও বিভাজনের রাজনীতি আর কাজ করবে না। ভোটে বজরংবলীকে অপব্যবহার করে বিজেপি ধূলিসাৎ হয়ে গেছে।’
ছত্তীশগড় কংগ্রেসের প্রধান মোহন মাকরাম রবিবার রায়পুরের হনুমান মন্দিরে প্রার্থনা করার পর বিজয় মিছিল করেন। মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল টুইট করেন, ‘কর্নাটকের মানুষকে বিজেপি বজরংবলীকে সামনে রেখে বিভ্রান্ত করতে পারেনি। বিজেপির কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। মানুষ তাদের জীবনযন্ত্রণার ইস্যুতে ভোট দিয়েছে।’
মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ যে কোনও বিজেপি নেতার থেকেও বড় হিন্দু। দিনের বড় অংশ তাঁর পুজোআচ্চা নিয়ে কাটে। এমপি থাকাকালে নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ছিন্দেওয়ারায় বহু বছর আগে বিশাল হনুমান মূর্তি ও মন্দির স্থাপন করেছেন তিনি। বিজেপি নেতাদের মতো তিনিও দলীয় সফরে কোনও না কোনও মন্দিরে গিয়ে মাথা ঠেকান। স্বভাবতই মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসের যাবতীয় সামাজির মাধ্যম কর্নাটকের ফল ঘোষণার পর থেকেই বজরংবলীময়। একটি মিমে লেখা হয়েছে, শ্রীরামচন্দ্রকে ভক্ত হনুমান বলছে, ‘আপনার আশীর্বাদে কর্নাটকে সত্যের জয় হয়েছে।’ জবাবে হনুমানকে রাম বলছেন, ‘এবার মধ্যপ্রদেশে তোমার ভক্ত কমলনাথের জন্য জয় ছিনিয়ে আনো।’
রাজস্থানেও কংগ্রেসের অফিস, সামাজিক মাধ্যম বজরংবলীর ছবিতে ছেয়ে আছে। রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি গোবিন্দ দোতাসারা বলেন, বজরংবলীকে আঁকড়ে ধরে বিজেপি বাজিমাৎ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু ভারত জোড়ো যাত্রা জাতীয় রাজনীতিতে আগেই পরিবর্তনের সূচনা করে দিয়েছিল।
কংগ্রেসের প্রবীন মুখপাত্র পবন খেরা এই ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেন। তাঁর কথায়, ‘বজরং দলকে বজরংবলীর সঙ্গে তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে বড় অপমান করেছেন।’ খেরার মতে, ‘মোদীর অনৈতিক প্রচার কর্নাটকে কংগ্রেসকে জিততে সাহায্য করেছে।’
মমতাই আদর্শ! আইনি মতে পদবী বদলে ‘বন্দ্যোপাধ্যায়’ করলেন নদিয়ার সেই হেডস্যার