দ্য ওয়াল ব্যুরো : পাছে কংগ্রেস কাউকে ভাঙিয়ে নেয়, সেই ভয়ে কর্ণাটকের বিজেপি বিধায়কদের আর রাজ্যেই রাখতে সাহস করেনি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। তাঁদের রাখা হয়েছে দিল্লির কাছে গুরগাঁওয়ের এক হোটেলে। এবার ‘বিজেপির হাত থেকে বাঁচানোর জন্য’ কংগ্রেসও তার বিধায়কদের আটকে রাখল বেঙ্গালুরুর কাছেই এক রিসর্টে। কয়েকমাস আগে রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পরে যখন বিধায়ক কেনাবেচার সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল, তখনও এই রিসর্টেই রাখা হয়েছিল কংগ্রেসী বিধায়কদের। তারও আগে একবার গুজরাতের কংগ্রেস বিধায়কদেরও ওই রিসর্টে রাখা হয়েছিল।
কিছুদিন আগেই শোনা গিয়েছিল, কংগ্রেসের কয়েকজন বিধায়ক নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের নাকি রাখা হয়েছে মুম্বইয়ের এক হোটেলে। সেখানে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বিজেপি নেতৃত্ব। দল ভেঙে গেরুয়া শিবিরের দিকে আসার জন্য তাঁদের বিপুল অর্থের লোভ দেখানো হয়েছে।
এর পরে বুধবার এক ‘নিখোঁজ’ বিধায়ককে কংগ্রেসের মিটিং-এ দেখা যায়। শোনা যায়, তার আগেরদিন ফিরে এসেছেন আর এক নিখোঁজ বিধায়ক। শুক্রবার কংগ্রেস পরিষদীয় দলের বৈঠকে ৭৬ জন বিধায়ককে দেখা যায়। চার বিধায়ক বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে তাঁদের সঙ্গে দলের যোগাযোগ আছে বলেই জানানো হয়। তবে এখনও নিখোঁজ আছেন কংগ্রেসের তিন বিধায়ক।
পরিষদীয় বৈঠকের শেষে বিধায়কদের বাসে তোলা হয়। তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় ইগলটন গলফ রিসর্টে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, বিজেপির হাত থেকে বিধায়করা যাতে নিরাপদ থাকেন, সেজন্য তাঁদের ওই রিসর্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সিদ্দারামাইয়া ও শাসক জোটের অপর নেতা ডি কে শিবকুমার বিজেপির বি এস ইয়েদুরাপ্পাকে দোষ দিয়ে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি কর্ণাটকে ফের ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছে। এর পিছনে আছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ।
কংগ্রেসের ট্রাবল শুটার বলে পরিচিত শিবকুমার বলেন, আমাদের বিধায়করা সবাইকে বার্তা দিতে চান, তাঁরা ঐক্যবদ্ধ আছেন। এদিন পরিষদীয় দলের বৈঠকে তিনজন বাদে সবাই উপস্থিত ছিলেন। নিখোঁজ তিনজনের বিরুদ্ধে দল ব্যবস্থা নেবে।
কংগ্রেসের দাবি, কর্ণাটকে ‘অপারেশন লোটাস’ নামে এক পরিকল্পনা কার্যকর করতে চায় বিজেপি। তারা চেষ্টা করছে যাতে বিরোধী পক্ষের যত বেশি সংখ্যক বিধায়ককে ভাঙিয়ে আনা যায়। এর আগে ২০০৮ সালে রাজ্যে ইয়েদুরাপ্পা সরকারকে রক্ষা করার জন্য বিজেপি বিরোধীপক্ষের কয়েকজন বিধায়ককে ভাঙিয়ে এনেছিল।