দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিটা দলই তাদের সদস্যপদ দিতে গেলে কিছু শপথ করিয়ে নেয়। প্রতিজ্ঞা করে সই করতে হয় ফর্মে। মূলত নির্দিষ্ট দল তাদের মতাদর্শগত শৃঙ্খলাকে বাঁধুনির মধ্যে রাখতেই এই কাজটা করে। কংগ্রেসও (Congress) তার থেকে আলাদা নয়। তবে অন্য দলের ক্ষেত্রে যা নেই কংগ্রেসে তা আছে। পোশাক আর নেশার বিধি!
কংগ্রেসের যে সদস্যপদের ফর্ম, তাতেই দুই ও তিন নম্বর শপথে লেখা রয়েছে, ‘আমি খাদির পোশাক পরি’ এবং ‘আমি মদ্যপান করি না।’
গত ১ নভেম্বর থেকে সারা দেশে কংগ্রেসের সদস্যপদ সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। বাংলাতে তা শুরু হবে ১০ তারিখ। সদস্যপদ বাড়ানোর ক্ষেত্রে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। এবারেও যে ফর্মে তা পূরণ হবে তার দ্বিতীয় পাতায় লেখা রয়েছে খাদি পরা ও মদ্যপান না করার প্রতিজ্ঞাবাক্য।
তবে এই একুশ সালে দাঁড়িয়ে এই দুটি বিষয় কতটা বাস্তব সম্মত তা নিয়ে কংগ্রেসের শীর্ষস্তরেই প্রশ্ন রয়েছে। প্রশ্ন আছে, এমন বিধি মানেন ক'জন। এমনকি এ নিয়ে গত সিডব্লিউসি বৈঠকে নিজেই নেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। রাহুল জিজ্ঞেস করেছিলেন, এই সময়ে কি এটা বাস্তব? যদি তা নয় তাহলে কেন এই দুটি বিষয় সদস্যপদ গ্রহণের ফর্মে থাকবে?
এমনকি রাহুল ওই বৈঠকেই প্রশ্ন ছুড়ে দেন, আচ্ছা এই ঘরে কারা আছেন যাঁরা মদ্যপান করেন? সত্যি করে বলুন! লুকোছাপার কিছু নেই! রাহুলের অভয় পেয়ে দুই সাধারণ সম্পাদক উঠে দাঁড়িয়ে বলেন, তাঁরা মদ্যপান করেন। এই দুই নেতার জবাব শুনে রাহুল হেসে ফেলেন। এবং বলেন, মাত্র দু’জন! আমার মনে হয় সংখ্যাটা আরও বাড়বে।
সূত্রের খবর, তাঁর এই কথা শুনে রেগে থাকা গুলাম নবি আজাদ, কপিল সিব্বলও হেসে ফেলেন। পরিস্থিতি একটু হালকা দেখেই উঠে দাঁড়ান পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি নভজ্যোৎ সিং সিধু। তিনি রাহুলের উদ্দেশে বলেন, “কিছু মনে করবেন না ! আমাদের রাজ্যের সব নেতাই মদ্যপান করেন!” রাহুল তখন বলেন, “আচ্ছা বুঝেছি!” পরের বার থেকে এই বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।
এ নিয়ে হুগলির এক কংগ্রেস নেতার সঙ্গে দ্য ওয়াল-এর তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনি নিয়মিত মদ্যপান করেন শুধু তাই নয়, কলকাতার একাধিক পানশালার নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে নামে চেনেন! এ হেন নেতাও বলেন, এই দুটি বিষয় এবার উঠিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। যা অবাস্তব তাকে আরোপ করার চেষ্টা হলে লোকে লুকিয়ে করবে। তা কি হয়! এখন যদি কেউ বলেন, কংগ্রেস করলে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না! সেটা কি সম্ভব?
সিপিএমে অবশ্য এ ব্যাপারে আইন ও আইনের ফাঁক দুটোই আছে। তাদের গঠনতন্ত্রে লেখা রয়েছে মাদকাশক্ত হয়ে অসংলগ্ন আচরণ করা অর্থাৎ মাতলামি করা বহিষ্কারযোগ্য অপরাধ। যদিও মদ্যপায়ী অনেক সিপিএম নেতা বলেন, গঠনতন্ত্রের ওই ধারার অন্তর্নিহিত অর্থ আসলে অন্য। মানে মদ খাওয়া যাবে। কিন্তু মাতলামি না করলেই হল!