দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাব কংগ্রেসের মধ্যে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, সবে তা মিটেছে। কিন্তু এরই মধ্যে আবার রাজস্থানে কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়ে গেছে বিতর্ক। সেদিকেই এখন নজর কংগ্রেস হাইকমান্ডের।
রাজস্থানে শচিন পাইলটকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবি উঠতে শুরু করেছে। বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটের বিরুদ্ধেও নানা বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এমন অবস্থায় রাজস্থানের মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা রয়েছে ষোলোআনা।
দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে জয়পুরে গিয়েছেন দুই বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা কেসি বেনুগোপাল এবং অজয় মাকেন। সূত্রের খবর, শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত অশোক গেহলটের সঙ্গে তাঁরা বৈঠক করেছেন।
অশোক গেহলটের বয়স হয়েছে। দলীয় কোন্দল থামাতে কি এবার তরুণ মুখ্যমন্ত্রীই বেছে নেবে কংগ্রেস? শচিন পাইলটকে কি মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসাবে হাইকমান্ড? প্রশ্ন অনেক। কারণ যে সংকট রাজস্থান কংগ্রেসের অন্দরে দানা বাঁধতে শুরু করেছে, তাতে মধ্যপ্রদেশের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। এই সংকট বাড়তে বাড়তেই মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস সরকারের পতন হয়েছে। সরকার গড়েছে বিজেপি।
কর্ণাটকে বিজেপি সরকারেও মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে চাপানউতোর জারি রয়েছে। সেখানে বি এস ইয়েদিয়ুরাপ্পাকে যে সরতে হবে তা একপ্রকার নিশ্চিত। সেই অনুযায়ী কথাবার্তাও চলছে। মিলছে ইঙ্গিতও। তবে ইয়েদিয়ুরাপ্পা চাইছেন উত্তরাধিকারী বেছে দিয়ে যেতে। সেই সুযোগ তাঁকে দেওয়া হবে কিনা সেটাই এখন দেখার।
রাজস্থানে কংগ্রেস কোন পথে হাঁটবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সেদিকে দেশের রাজনৈতিক মহলের চোখ থাকবে। ইতিমধ্যে শচিন পাইলটের ঘনিষ্ঠদের মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ফেলেছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। সেই সিদ্ধান্ত খুব একটা পছন্দ হয়নি অশোক গেহলটের, ইঙ্গিতে তা স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাইলটরাও নাছোড়। দলের মধ্যে এভাবেই দুই ভাগ ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে। একদিকে রাজস্থানে কংগ্রেসকে ক্ষমতায় আনতে শচিন পাইলটের কৃতিত্ব যেমন কম নয়, অন্যদিকে তেমনই অশোক গেহলটের মতো বর্ষীয়ান অভিজ্ঞ নেতার অবজ্ঞাও কাম্য নয়। সরকার ধরে রাখতে কোন পথে পা বাড়াবে কংগ্রেস, সেটাই এখন দেখার।