.jpeg)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 18 January 2025 09:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেসকে ‘নতনু মুসলিম লিগ’ বলে আক্রমণ করেছেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালবিয়া। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, কংগ্রেস হিন্দুদের ধর্মীয় ঐতিহ্য, ইতিহাস মানতে চায় না। ধর্মাচরণের ক্ষেত্রে হিন্দুদের মৌলিক অধিকারকেও অস্বীকার করে।
মালবিয়ার এই মন্তব্যের কারণ উপাসনাস্থল আইন নিয়ে কংগ্রেসের অবস্থান। বারাণসীর জ্ঞানবাপী, মথুরার শাহি মসজিদ নিয়ে বিবাদ আটকাতে কংগ্রেস সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। হাত শিবির শীর্ষ আদালতের কাছে আর্জি জানিয়েছে, ১৯৯১ সালের আইনটি অটুট রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে। কংগ্রেসের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সরব হয়েছে বিজেপি।
তাৎপর্যপূর্ণ হল বিজেপি এই ইস্যুতে আএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের উল্টো পথে হাঁটছে। নতুন করে সামনে আসা মন্দির-মসজিদ বিবাদ নিয়ে ভাগবত সম্প্রতি মুখ খুলেছেন। তাঁর কথায়, অতীতে কী হয়েছে সকলে জানে। এখন মসজিদের নীচে মন্দির খোঁজা হচ্ছে কেন? আরএসএস সুপ্রিমো নাম না করে বিজেপি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, মন্দির-মসজিদ বিবাদ হাতিয়ার করে কেউ কেউ হিন্দুদের রক্ষাকর্তা সাজতে চাইছেন। নাম না করে ভাগবতের কথা উড়িয়ে দিয়েছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর বক্তব্য, এটা ইতিহাস পুনরুদ্ধারের লড়াই। হিন্দুরা তাঁদের হারানো অধিকার ফিরে পেতে চাইছে। প্রসঙ্গত, মন্দির-মসজিদ নিয়ে চলমান বিবাদের সাতটিই রয়েছে উত্তর প্রদেশে। অমিত মালবিয়াও এই ইস্যুতে ভাগবতের উল্টো পথে হাঁটলেন। যা থেকে স্পষ্ট এই ইস্যুতে বিজেপি ভাগবতের কথায় গলা মেলাচ্ছে না।
১৯৯১ সালের ওই আইনে বলা আছে, ১৯৪৭ সালের ১৫ অগাস্ট দেশের উপাসনাস্থলগুলি যে অবস্থায় ছিল তেমনই রাখতে হবে। সেগুলির আকার, চরিত্র, ব্যবহার বদলানো যাবে না। অযোধ্যার রাম মন্দির আন্দালনের মুখে কংগ্রেসের নরসিংহ রাও সরকারের সময়ে তৈরি ওই আইনের তীব্র বিরোধিতা করেছিল বিজেপি। শীর্ষ আদালতে কংগ্রেস বলেছে, আইনটি দেশের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শের অন্যতম রক্ষা কবচ। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ অশ্বীনি কুমার উপাধ্যায়-সহ একাধিক ব্যক্তি আইনটি বাতিলের দাবিতে আদালতের স্মরণাপন্ন হয়েছেন। শীর্ষ আদালত ওই মামলায় কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান জানতে চেয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে আইনটি বহাল রাখতে কংগ্রেস শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় সরব হয়েছে বিজেপি। মালবিয়া এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, কংগ্রেস আসলে হিন্দুদের অধিকার অস্বীকার করতে চায়। অতীতের ভুল শুধরে নেওয়াতে ১৯৯১ সালের আইনটি সবচেয়ে বড় বাধা। কংগ্রেস সেই আইনের পক্ষে সওয়াল করছে।