
শেষ আপডেট: 26 May 2023 10:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কংগ্রেস হাইকমান্ড এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কিছুই জানায়নি, তবে রাজস্থান কংগ্রেসে (Congress in Rajasthan) স্বস্তির হাওয়া বইছে। কারণ, হাইকমান্ডের সমাধান-সূত্র মোটের উপর মেনে নিয়েছেন বিবদমান দুই গোষ্ঠীর প্রধান মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট (Ashok Gehlot) এবং প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী শচীন পাইলট (Sachin Pilot)।

আগামী নভেম্বরে রাজ্যে বিধানসভার ভোট। সেই পর্যন্ত গেহলটই মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে থাকবেন। তাঁকে সামনে রেখেই ভোটে লড়াই করবে কংগ্রেস। অন্যদিকে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হবেন শচীন পাইলট। ফলে প্রার্থী বাছাই থেকে ভোটের প্রচার-সহ নির্বাচনের যাবতীয় বিষয়ে তাঁর মতামত ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত নেবে না দল।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদে এখন আছেন গোবিন্দ সিং ডোটাসোরা (Govind Singh Dotasra)। তিনি সরাসরি গেহলটের লোক না হলেও শচীনের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল নয় এই জাঠ নেতার। রাজস্থান কংগ্রেসে গেহলট হলেন ওবিসি-দের মুখ। শচীন হলেন প্রভাবশালী গুজ্জর সম্প্রদায়ের নেতা। অন্যদিকে, ডোটাসোরার ভরসায় জাঠ ভোট নিশ্চিত করার কৌশল নেওয়া হয়েছিল। তাঁকে প্রদেশ সভাপতির পদ থেকে সরালে জাঠ সম্প্রদায় অখুশি হলেও তাতে বিজেপির সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ পদ্ম শিবিরও মাস কয়েক আগে জাঠ নেতা সতীশ পুনিয়াকে প্রদেশ বিজেপির সভাপতি পদ থেকে সরিয়ে বিধানসভার উপনেতা করেছে। তারপরও অশোক গেহলট প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে ডোটাসোরাকে সরানোর প্রস্তাবে সায় দিতে চাননি। কারণ ওই জাঠ নেতা থাকলে শচীনকে টাইট দেওয়া তাঁর পক্ষে সহজ হয়।

কিন্তু জানা যাচ্ছে কংগ্রেস হাইকমান্ড পাল্টা প্রস্তাবে বলেছে, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে ডাটোসোরাকে উপমুখ্যমন্ত্রীর করে ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়া হবে। এরপর আর ডোটাসোরার জায়গায় শচীনকে মেনে নিতে আপত্তি করেননি গেহলট।
কিন্তু কংগ্রেস ফের ক্ষমতায় এলে কে হবেন মুখ্যমন্ত্রী? কংগ্রেস সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, কর্নাটক মডেল অনুসরণ করা হবে তখন। নভেম্বরে রাজস্থানের পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগড়, তেলেঙ্গানাতেও ভোট। এই চার রাজ্যের ক্ষেত্রেই কংগ্রেস কর্নাটক মডেল অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ ভোটের পর গোপন ব্যালটে বিজয়ী বিধায়কদের ভোটে মুখ্যমন্ত্রী বাছাই করা হবে।
তিনি শুধু কর্নাটকে দলকে অটুট রেখেছেন তাই-ই নয়, অন্য রাজ্যেও দলের সংকটে পাশে দাঁড়িয়েছেন। প্রথমসারির ব্যবসায়ী শিবকুমার দলের জন্য কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন। ইডি, সিবিআই তাঁকে একাধিকবার গ্রেফতার করলেও দল ছাড়েননি।

কিন্তু কংগ্রেসের নির্বাচিত ১৩৫ জন বিধায়কের মধ্যে ৮১ জনই মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আরও একবার সিদ্দারামাইয়াকে চেয়েছেন। কংগ্রেস সরকারিভাবে ঘোষণা না করলেও সিদ্ধান্ত গোপন নেই যে দুই থেকে আড়াই বছরের মাথায় সিদ্দারামাইয়া মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি স্বেচ্ছায় শিবকুমারের দিকে এগিয়ে দেবেন। যদি না ২০১৯-এর মতো তার আগেই কংগ্রেসকে ভাঙিয়ে বিজেপি সরকার গড়ে নেয়।
রাজস্থান নিয়েও কংগ্রেসের ভাবনা একই। ভোটের পর দেখা যাবে তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী গেহলটকে ফের মুখ্যমন্ত্রী চান কি না বিধায়কেরা। ক্ষমতাসীন দল হওয়ায় সরকারিভাবে কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই। কর্নাটকে তারা বিরোধী দল হওয়া সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থীর বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছিল। তাছাডা, বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বাড়তি সুবিধা হল তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সামনে রেখে লড়াই করে। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে কাউকে সেভাবে প্রজেক্ট করে না।
গেহলটের বিরুদ্ধে ফের ময়দানে শচীন, সংঘর্ষ যাত্রায় নেই রাহুল-প্রিয়ঙ্কার ছবি