
শেষ আপডেট: 29 May 2023 12:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের জয়ে উদ্দীপিত কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব। সোমবার মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস (Congress in Madhya Pradesh) নেতাদের সঙ্গে দিল্লিতে বৈঠক করেন দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে এবং প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী।
বৈঠক শেষে রাহুল নিজে থেকেই সাংবাদিকদের দিকে এগিয়ে যান। তাঁকে বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল। প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি বলেন, কর্নাটকে আমরা ১৩৬ আসন জিতেছি। মধ্যপ্রদেশে পাবো ১৫০।
দিল্লিতে রাহুল এই কথা বলামাত্র ভোপালে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান (Shivraj Singh Chouhan) দাবি করলেন, আগামী নির্বাচনে দু’শোর বেশি আসনে জিতে ক্ষমতায় টিকে থাকবে বিজেপি। তাঁর সাফ কথা, কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরার প্রশ্নই আসে না। ডবল ইঞ্জিনের সরকারের কাজের প্রতি ফের আস্থাজ্ঞাপন করবেন মানুষ।
প্রসঙ্গত, ওই রাজ্যে বিধানসভার মোট আসন ২৩০। অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে দরকার মাত্র ১১৬ আসনে জয়। রাহুল কীসের ভিত্তিতে দেড়শো আসনে জয়ের কথা বলছেন? শিবরাজই বা কেন দুশো পারের আকাশচুম্বি দাবি করে বসলেন।
সোমবার কংগ্রেস সদর দফতরের বৈঠকে মধ্যপ্রদেশের দুই প্রাক্তন কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং এবং কমলনাথ উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয়জন বর্তমানে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। বৈঠকে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলের শক্তি নিয়ে কথা হয়। সূত্রের খবর, কমলনাথ ও দিগ্বিজয় বৈঠকে জানান, বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ চরমে। পরিস্থিতি অনেকটাই কর্নাটকের মতো। কংগ্রেসের ক্ষমতায় ফেরা সময়ের অপেক্ষা।
রাহুল অবশ্য কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী মুখ কে হবেন, এই প্রশ্নের জবাব সাংবাদিকদের কাছে এড়িয়ে গিয়েছেন। পাশে দাঁড়ানো কমলনাথকে সঙ্গে নিয়ে অফিস ছাড়েন তিনি। রাজনৈতিক মহলের খবর, মধ্যপ্রদেশে বিজেপি স্বস্তিতে নেই। দলের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানকে নিয়ে। চারবারের মুখ্যমন্ত্রীর জায়গায় ভোটের আগেই নতুন মুখ আনা দরকার বলে মনে করেন শীর্ষ নেতাদেরও একাংশ। কিন্তু অবস্থা বুঝে একদা মোদী বিরোধী বলে পরিচিত প্রবীণ নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ প্রধানমন্ত্রীর গুণমুগ্ধ ভক্তে পরিণত হয়েছেন।
সেখানে মুখ্যমন্ত্রী পদের দাবিদার তিনজন। তাঁদের অন্যতম কেন্দ্রের অসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া প্রাক্তন কংগ্রেসি। তিনি ২০১৯-এ কংগ্রেস বিধায়কদের ভাঙিয়ে বিজেপির ক্ষমতায় ফেরার পথ প্রশস্ত করলেও তাঁকে রাজ্য-রাজনীতিতে তেমন ঘেঁষতে দেয়নি গেরুয়া শিবির। শিবরাজকে বিনা বাধায় কাজ করতে দিতেই এই পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এখন বিধানসভা ভোটের আগে সিন্ধিয়া শিবির ফের তৎপর।
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আছেন বিজেপির দুই পুরনো মুখ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র এবং কেন্দ্রের কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। অন্যদিকে, কমলনাথ ও দিগ্বিজয়ের মধ্যে সম্পর্ক ভাল। দিগ্বিজয়ের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার বাসনা নেই। উল্টে জ্যোতিরাদিত্য দল ছেড়ে যাওয়ায় কমলনাথ আরও নিষ্কণ্টক। ফলে কংগ্রেস ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াইয়ে প্রস্তুত। সম্ভবত, নির্বাচনের ছয় মাস আগে এমন অনুকূল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই রাহুল এতটা আশাবাদী।
প্রসঙ্গত, ২০১৮-তে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং ছত্তীসগড় বিজেপির হাত থেকে কেড়ে নিয়েছিল কংগ্রেস। রাহুল তখন কংগ্রেস সভাপতি। আগামী ভোটে তিনি কংগ্রেসের মুখ হিসাবে তিন রাজ্যে দলের লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেবেন।
সেই রাহুল সোমবার দেড়শো আসন পাওয়ার দাবি করায় বিজেপির তরফে প্রতিক্রিয়া আসা স্বাভাবিকই ছিল। শিবরাজ নিজে দুশো আসন পাওয়ার দাবি করে এক ঢিলে দুই পাখি মারার কৌশল নিলেন। কংগ্রেসকে জবাব দেওয়ার পাশাপাশি দলে নিজের কর্তৃত্ব জাহির করলেন, মনে করছে বিজেপির একাংশ।
বাইরন বেরিয়ে গেলেন কংগ্রেস থেকে, জিতেই জোড়াফুলে অনুপ্রাণিত সাগরদিঘির পোস্টারবয়