দ্য ওয়াল ব্যুরো : পুদুচেরিতে খুব অল্প গরিষ্ঠতার জোরে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। ভোটের কয়েক মাস আগে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাল সরকার। কংগ্রেসের চার বিধায়ক সম্প্রতি ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দু'জন ইস্তফা দিয়েছেন সোম ও মঙ্গলবার। এর ফলেই সরকার গরিষ্ঠতা হারিয়েছে।
পুদুচেরি বিধানসভায় নির্বাচিত বিধায়কের সংখ্যা ৩০। কংগ্রেসের ছিল ১৪ জন বিধায়ক। এছাড়া ডিএমকে-র দু'জন ও এক নির্দল বিধায়ক কংগ্রেসকে সমর্থন করেছিলেন। সরকার গড়তে সেখানে চাই ১৬ জন বিধায়কের সমর্থন। কংগ্রেসের পক্ষে ছিলেন ১৭ জন।
কংগ্রেসের চারজন ইস্তফা দেওয়ার পরে সরকার ও বিরোধী, উভয়পক্ষেই ১৪ জন করে বিধায়ক আছেন। এখন কংগ্রেস বিধায়কের সংখ্যা ১০। বিধানসভায় আছেন মোট ২৮ জন বিধায়ক। এই অবস্থায় গরিষ্ঠতা পেতে হলে ১৫ জন বিধায়কের সমর্থন চাই।
বুধবারই পুদুচেরিতে যাচ্ছেন প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে ভোটের কৌশল স্থির করবেন। তার আগেই সেখানে সংকটে পড়েছে কংগ্রেস সরকার।
কংগ্রেসের যে চারজন ইস্তফা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এ নমোশিবম এবং এ থেপ্পাইনজান বিধায়ক পদ ছাড়েন ২৫ জানুয়ারি। দু'জনেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সোমবার বিধায়ক পদ ছেড়েছিলেন মাল্লাদি কৃষ্ণা রাও। মঙ্গলবার পদ ছেড়েছেন জন কুমার। এন ধনভেলু নামে এক বিধায়ক গত বছরেই দলবিরোধী কার্যকলাপের জন্য ডিসকোয়ালিফায়েড হয়েছিলেন।
মাল্লাদি কৃষ্ণ রাও গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লি গিয়েছিলেন। তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করেন, লেফটেন্যান্ট গভর্নর কিরণ বেদিকে পুদুচেরি থেকে ফিরিয়ে আনা হোক। তার পরেই তিনি ইস্তফা দেওয়ায় অবাক হয়েছেন অনেকে। এ নমোশিবম একসময় পুদুচেরিতে কংগ্রেসের প্রধান ছিলেন। কেন্দ্রশাসিত ওই অঞ্চলে কংগ্রেসের শক্তি সংহত করার কাজে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন কংগ্রেসকর্মী দল ছেড়েছেন।
কয়েক বছর ধরেই কংগ্রেসে বিক্ষুব্ধ ছিলেন নমোশিবম। ২০১৬ সালে ভোটের সময় শোনা গিয়েছিল, তিনিই মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন। কিন্তু সেই পদ পান ভি নারায়ণস্বামী। তিনি ভোটেই প্রার্থীই ছিলেন না। পরে প্রদেশ কংগ্রেস প্রধানের দায়িত্বও নমোশিবম পাননি। সেই পদটি পেয়েছিলেন এ ভি সুব্রহ্মণ্যম।
কিছুদিন আগে শোনা যায়, পুদুচেরিতে কংগ্রেস ও ডিএমকে-র সম্পর্কেও চিড় ধরেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষি বিল নিয়ে আলোচনার জন্য কংগ্রেস পুদুচেরি বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিল। কিন্তু ডিএমকে সেখানে উপস্থিত হয়নি। লেফটেন্যান্ট গভর্নর কিরণ বেদির বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন ভি কে নারায়ণস্বামী। সেই বিক্ষোভেও শামিল হয়নি ডিএমকে।