দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগের থেকে কিছুটা ভাল আছেন ফেলুদা। লড়ে যাচ্ছেন সব শারীরিক বাধাবিপত্তির বিরুদ্ধে। হাসপাতালে ভর্তির আজ ২৪ দিন পরে শারীরিক অবস্থার সামান্য উন্নতি হলেও সমস্যা তৈরি করছে তাঁর স্নায়ুর রোগ। ফেলুদার মস্তিষ্কে যে এনসেফ্যালোপ্যাথি বাসা বেঁধে রয়েছে সে নিয়েই মূলত চিন্তা চিকিৎসকদের।
বেলভিউ হাসপাতালের রাতের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, এখনও অক্সিজেন সাপোর্টেই আছেন সৌমিত্রবাবু। তাঁর রক্তচাপ স্বাভাবিক। হার্টের অবস্থাও মন্দ নয়। জটিল কার্ডিয়াক সমস্যা দেখা দেয়নি। একমাত্র চিন্তা স্নায়বিক রোগ নিয়েই।
এনসেফ্যালোপ্যাথি হল মস্তিষ্কের রোগ যা কোভিড সংক্রমণের কারণে হতে পারে। যেহেতু সৌমিত্রবাবুর নিউরোলজিক্যাল সমস্যা বা স্নায়বিক রোগ রয়েছে তাই এনসেফ্যালোপ্যাথির উপসর্গ দেখা গেছে তাঁর মধ্যে। কোভিড সংক্রমণে এনসেফ্যালোপ্যাথি হলে অধিক উত্তেজনা, ভুলে যাওয়া, ট্রমা, উদ্বেগ দেখা দেয়। সৌমিত্রবাবুরও তেমনই উপসর্গ দেখা গেছে। যদিও এই স্নায়ুর রোগকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন ডাক্তাররা। বেলভিউ হাসপাতালের ডাক্তাররা বলেছেন, হার্ট বা লিভার ফাংশনে খুব একটা সমস্যা না হলেও কিছুতেই ঠিকমতো সম্বিত ফিরছে না সৌমিত্রবাবুর। তার কারণই হল এই এনসেফ্যালোপ্যাথি। এই স্নায়বিক রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামীকাল থেকে নতুন স্ট্র্যাটেজি ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন বেলভিউ হাসপাতালের ডাক্তাররা।
বুধবার প্রথম দফার ডায়ালিসিস হয়েছিল বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফার ডায়ালিসিস হয়। আজ আর ডায়ালিসিস করা হয়নি। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, তাঁর কিডনির অবস্থা খারাপ নয়। ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রক্তে প্লেটলেট কাউন্ট কমেনি। হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও ঠিক আছে। তবে এখনই পুরোপুরি সঙ্কটমুক্ত নন ফেলুদা। তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রতি মুহূর্তে সতর্ক নজর রাখছেন ডাক্তাররা।
সৌমিত্রবাবু মঙ্গলবার একেবারেই অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলেন। মঙ্গলবার বেলভিউ জানিয়েছিল সৌমিত্রবাবুর ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা ঊর্ধ্বমুখী। ফুসফুসের সংক্রমণ রোখার জন্য একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। তা ছাড়া কোভিড সেরে যাওয়ার পর এখন নতুন করে নিউমোনিয়া ধরা পড়েছে ৮৫ বছর বয়সী অভিনেতার। সেটা নিয়েও উদ্বেগে রয়েছেন চিকিৎসকরা। বুধবার অতি সামান্য উন্নতি হয় তাঁর। তারপর দু’দিন আরও খানিকটা উন্নতি হয়েছে অভিনেতার শারীরিক অবস্থার।