দ্য ওয়াল ব্যুরো : নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হলে ভারতে ধর্মের স্বাধীনতা রক্ষা পাবে তো? এই নিয়ে উদ্বেগে আছে আমেরিকা। অসম ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খুলেছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের কেউ কেউ। আগামী সপ্তাহেই ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। সেখানে তাঁদেরও নাগরিকত্ব বিল নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।
মার্কিন কূটনীতিক স্যাম ব্রাউনব্যাক টুইট করে বলেছেন, "ভারতে শক্তির অন্যতম উৎস হল তার সংবিধান। ভারতের সহযোগী গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে আমরা তাদের প্রতিষ্ঠানগুলিকে সম্মান করি। সিএবি বিলের কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।" পরে তিনি বলেন, "আমরা আশা করব, ভারতের সংবিধানে ধর্মাচরণের স্বাধীনতার যে অধিকার দেওয়া আছে, সরকার তা রক্ষা করবে।"
আগামী ১৮ ডিসেম্বর জয়শংকর বৈঠকে বসবেন মার্কিন বিদেশ সচিব মাইক পম্পিও-র সঙ্গে। রাজনাথ সিং মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব মার্ক এসপারের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এর মধ্যে মার্কিন কংগ্রেসে কাশ্মীর ও অসমের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গ্রেগরি স্ট্যানটন নামে এক বিশেষজ্ঞ। তিনি একসময় বিদেশ দফতরে কাজ করতেন। কীভাবে গণহত্যা ঘটে তার ওপরে স্ট্যানটনের গবেষণা আছে। তাঁর গবেষণাপত্রের নাম 'টেন স্টেজেস অব জেনোসাইড'। ১৯৯৬ সালে তিনি গবেষণাপত্রটি বিদেশ দফতরের সামনে পেশ করেন। মার্কিন কংগ্রেসে তিনি যাতে ভাষণ দেন, সেজন্য উদ্যোগ নিয়েছিল আমেরিকান মুসলিম কাউন্সিল, এনগেজ অ্যাকশন ও হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস নামে তিনটি সংগঠন।
স্ট্যানটন বলেন, অসম থেকে মুসলিমদের তাড়ানোর অজুহাত তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর মতে, কাশ্মীর ও অসমেও গণহত্যা চলছে। তাতে প্রমাণিত হয়, 'টেন স্টেজেস অব জেনোসাইড' গবেষণাপত্রে যা বলা হয়েছে, তা সত্য।