
শপথগ্রহণের দাবিতে বিধানসভার সিঁড়িতে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রায়াত হোসেন সরকার।
শেষ আপডেট: 26 June 2024 17:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফল প্রকাশের পর ২২ দিন অতিক্রান্ত। এখনও বিধায়ক হিসেবে শপথ অনুষ্ঠান না হওয়ায় মানুষের হয়ে কাজ করতে পারছেন না, এই অভিযোগে বিচার চেয়ে বিধানসভার সিঁড়িতে বসে পড়লেন শাসকদলের নব নির্বাচিত দুই বিধায়ক সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রায়াত হোসেন সরকাররা।
সাধারণত বিরোধী দলের বিধায়করা বিধানসভার সিঁড়িতে বসে বিক্ষোভ দেখান। সেখানে শাসকদলের দুই নব নির্বাচিত বিধায়ককে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বসে থাকতে দেখে এদিন বিধানসভা চত্বরে শোরগোল পড়ে যায়।
সায়ন্তিকা বলেন, "প্রায় একমাস হতে চলল। শপথ নিতে না পারায় মানুষের হয়ে কোনও কাজ করতে পারছি না। এরপর তো মানুষ আমাদের মিথ্যেবাদী বলবে। তাই আবারও রাজ্যপালের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, উনি বিধানসভায় দ্রুত আমাদের শপথ গ্রহণের অনুমতি দিন।"
এদিকে দুই বিধায়কের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে জটিলতার জন্য এবার রাজ্যপালের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিলেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার স্পিকার বলেন, "রাজ্যপাল গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোকে মানছেন না। এভাবে উনি দু'জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির শপথ গ্রহণ আটকে রাখতে পারেন না। এবার আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব। রাষ্ট্রপতিরও দ্বারস্থ হব।"
রীতি অনুযায়ী, বিধায়কদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাজ্যপালের অনুমতি প্রয়োজন। সেজন্য সম্প্রতি রাজ্যপালকে চিঠি লিখেছিলেন স্পিকার। এ ব্যাপারে রাজ্যপালকে সংবিধানের নিয়মের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন বিমানবাবু।
এরপরই বুধবার রাজভবনে শপথবাক্য পাঠ করাতে চেয়ে সায়ন্তিকা ও রায়াতকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন রাজ্যপাল। যার জবাবে
বিধানসভায় শপথগ্রহণ কেন করতে চান, তাঁর কারণ ব্যাখ্য়া করে রাজ্যপালকে চিঠি লিখেছিলেন তাঁরা। যদিও মঙ্গলবার ফের রাজভবনের তরফে ইমেলে জানানো হয়েছে, বুধবারই রাজভবনে শপথগ্রহণের অনুষ্ঠান হবে।
এরপরই ফের স্পিকারের দ্বারস্থ হন সায়ন্তিকা এবং রায়াতরা। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁদের মতকে কেন গুরুত্ব দেওয়া হবে না, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন। এবার শপথের জন্য বিধানসভার সিঁড়িতেও বসে পড়লেন তাঁরা।
ফলে শপথ ঘিরে জটিলতা বাড়ছেই। এখন দেখার রাজ্যপাল বিধানসভায় এসে শপথবাক্য পাঠ করান কিনা।
এই প্রসঙ্গে আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি বলেন, "নব নির্বাচিত বিধায়কদের রাজভবনে যেতে অসুবিধে কোথায়? কিংবা রাজ্যপালেরই বা বিধানসভায় আসতে অসুবিধে কোথায়? এটা নিয়ে অযথা জলঘোলা করা হচ্ছে।"
অন্যদিকে বিজেপির বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পল বলেন, "কীসের জট? রাজভবনে গিয়ে শপথ পাঠ করতে কেন ওদের ইগোতে লাগছে? এর আগে ধূপগুড়ির ক্ষেত্রেও এমন নাটক দেখেছিলাম। তবে শেষ পর্যন্ত ধূপগুড়ির বিধায়ককে রাজভবনে যেতে হয়েছিল।"