
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 30 December 2024 17:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগ মামলার চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট। কিন্তু সোমবার ৩০ ডিসেম্বরও চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করা গেল না।
আদালত সূত্রের খবর, নিয়োগ মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র ওরফে কালীঘাটের কাকু এদিন জেল থেকে আদালতে আসার পথে আচমকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। ফলে এদিনও নিয়োগ মামলার চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
তবে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অর্পিতা মুখোপাধ্যায়, তাপস মণ্ডল, কুন্তল ঘোষ-সহ নিয়োগ মামলার অন্য অভিযুক্তরা এদিন আদালতে হাজির হয়েছিলেন। এদিনও চার্জ গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় এজলাসেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় বিচারককে। আদালতে বিচারকের পর্যবেক্ষণ, 'চেষ্টায় ত্রুটি রাখিনি, কিন্তু সব কিছু তো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই'।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গত সোমবার থেকে চার্জগঠন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি আদালতে প্রয়োজনীয় নথি জমা না দেওয়ায় চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে গিয়েছিল। ঘটনায় ভরা এডজলাস ইডির আধিকারিকদের ভর্ৎসনাও করেছিলেন বিচারক।
ইডিকে তীব্র ভর্ৎসনা করে ক্ষুব্ধ বিচারপতি এও বলেন, 'বুধবারের মধ্যে আদালতে সমস্ত নথি পেশ করতেই হবে। প্রয়োজনে সারারাত বসে কাজ করুন।'
আদালতের গুঁতো খেয়ে পরের দিনই নথি পেশ করে ইডি। তবে অন্যতম অভিযুক্ত কালীঘাটের কাকু অসুস্থতার কারণে এদিন আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় চার্জ গঠনের প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেল। আদালত সূত্রের খবর, শুনানির পরবর্তী দিন হিসেবে ২ জানুয়ারি নির্ধারিত করা হয়েছে।
২০২২ সালের ২২ জুলাই গভীর রাতে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করে ইডি। পরে পার্থর বান্ধবী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের দুটি ফ্ল্যাটে নগদ প্রায় ৫১ কোটি টাকা এবং প্রচুর সোনা, বিদেশি মুদ্রা বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারীরা। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে পরে আরও একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে মুক্ত। মোট ৫৪ জনের নামে অভিযোগ রয়েছে।