.webp)
বাঘের হানায় মৃত্যু হলেই দিতে হবে ক্ষতিপূরণ।
শেষ আপডেট: 8 May 2024 19:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাঘের হানায় মৃত ব্য়ক্তি নিয়ম ভেঙে গভীর জঙ্গলে ঢুকেছিলেন কি না আর বিচার করা যাবে না। বাঘের হানায় কারও মৃত্যু হলে অবিলম্বে সেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
বুধবার এই সংক্রান্ত একটি মামলায় নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, যে কোনও অঞ্চলে বাঘের হানায় মৃত্যু হলে দিতে হবে ক্ষতিপূরণ। সেক্ষেত্রে বাঘের হামলায় মৃত ব্যক্তি গভীর জঙ্গলে ঢুকেছিলেন নাকি বাঘ বিচরণ ক্ষেত্রের আশেপাশে ছিলেন, সেরকম কোনও বিষয় বাছবিচার করা হবে না। অর্থাৎ, সুন্দরবনের যে কোনও জায়গায় বাঘের হানায় মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ পাবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিবার।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর সুন্দরবনের নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরার জন্য বনদপ্তরের বৈধ অনুমতিপত্র (বিএলসি) নিয়ে সুন্দরবনের গভীর জঙ্গলে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন কুলতলির কাটামারি এলাকার বাসিন্দা দিলীপ সর্দার। সেখানই বাঘের হানায় মৃত্যু হয় তাঁর।
অন্যদিকে ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর বন দফতর থেকে অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনের নদীতে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন অমল দণ্ডপাটও। সে সেময় নৌকায় বাঘ হামলা চালায়। অন্যরা পালিয়ে গেলেও অমল বাঘের হানায় গুরুতর আহত হন। ১ জানুয়ারি ২০২২ তিনি মারা যান।
অভিযোগ, এনিয়ে হাইকোর্টের একাধিক নির্দেশ সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণ পাচ্ছিল না ওই দুই পরিবার। বাধ্য হয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মৃতদের স্ত্রী শেফালী সর্দার ও তপতী দণ্ডপাট। আদালতে রাজ্যের কৌঁসুলি তাঁদের আবেদনের বিরোধিতা করেন। রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য, তাঁরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে নিষিদ্ধ 'কোর' এলাকায় ঢুকেছিল। কাজেই তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত নয়।
মামলাকারীর আইনজীবী কৌশিক গুপ্ত ও শ্রীময়ী মুখোপাধ্যায় জানান, আদালতের নির্দেশেই বলা আছে, বাঘের হানায় মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তি কোর এলাকায় ঢুকে ছিলেন কি না, তা বিচার্য নয়। এদিন মৃত দুই ব্যক্তির ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং অন্য সমস্ত নথি আদালতে পেশ করেন তাঁদের পরিবারের আইনজীবীরা।
এরপরই সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে আদালত নির্দেশ দেয়, বাঘের হানায় মৃত্যু হলেই দিতে হবে ক্ষতিপূরণ। চার সপ্তাহের মধ্যে দুই পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য।