দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি বছরের শুরুতেই ত্রিপুরায় ২৫ বছরের কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়েছে বিজেপি। সোমবার এক অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব কার্যত দাবি করলেন, ভারতীয় সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্যই কমিউনিস্টদের পতন ঘটানো দরকার ছিল। অখিল ভারতীয় ইতিহাস সংকলন যোজনার অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কমিউনিস্টরা মোঘলদের মতোই ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে ধ্বংস করতে চায়। কীভাবে তাদের থামানো যায়, সে ব্যাপারে ত্রিপুরা এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে আছে।
বিপ্লব দেবের বক্তব্য, ত্রিপুরার মানুষ কমিউনিস্ট মতাদর্শ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁরা প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতি ও সভ্যতাকে অনুসরণ করছেন। তাঁর কথায়, কমিউনিস্টদের আমলে কয়েকজন গুন্ডার জন্ম হয়েছে। তারা মানুষের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ করতে চায়। তাদের ভুল বোঝাতে চায়।
বিজেপির বিরুদ্ধে গৈরিকীকরণের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কমিউনিস্টরা অকারণে সারা পৃথবীকে লাল রং-এ রাঙিয়ে দিতে চায়। বিজেপি গেরুয়াকরণে বিশ্বাসী নয়।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আলেকজান্ডারের মতো শক্তিশালী রাজা ভারত জয় করতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁকেও পুরুর মতো এক রাজার আত্মসম্মানের কাছে মাথা নত করতে হয়েছিল। মোঘল ও ব্রিটিশরা ভারতের সংস্কৃতি ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি। কমিউনিস্টরাও একই চেষ্টা করছে।
এদিন বিপ্লব দেব কয়েকটি বইও প্রকাশ করেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ত্রিপুরায় বিধানসভা নির্বাচন হয়। মোট ৫৯ টি আসনে ভোট হয়েছিল। তার মধ্যে ৩৫ টি পায় বিজেপি। বিজেপির সঙ্গী ছিল ইন্ডিজেনাস পিপলস ফ্রন্ট অব ত্রিপুরা। মূলত কংগ্রেসের ভোটাররাই সেবার শতাব্দী প্রাচীন দলটি থেকে মুখ ফিরিয়ে ভোট দেন বিজেপিকে। তবে রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হয় কংগ্রেসই। সিপিএমের হাল হয় শোচনীয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেন, বিজেপির উন্নয়নের অ্যাজেন্ডাকে ত্রিপুরার মানুষ সমর্থন করেছেন।
ক্ষমতায় আসার পরেই ত্রিপুরার ‘সাংস্কৃতিক’ ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে থাকে বিজেপি। সেজন্য গত দেওয়ালিতে ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরে খুব জাঁকজমক সহকারে পুজোর আয়োজন করা হয়। নভেম্বরের সাত থেকে ন’তারিখ অবধি তিন দিন যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। সেই উপলক্ষে আমন্ত্রণ জানানো হয় চার শঙ্করাচার্যকে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ ও আরও কয়েকজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আমন্ত্রিত হন।