দ্য ওয়াল ব্যুরো : নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে কেরল সরকার। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আগে রাজ্যের যিনি সাংবিধানিক প্রধান, সেই রাজ্যপালের অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি। সেজন্য রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান বৃহস্পতিবার পিনারাই বিজয়ন সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, “ভদ্রতা করে আগে একবার আমার অনুমতি তো নিতে পারত।”
এর আগে বেশ কয়েকটি রাজ্যের সরকার জানিয়েছে, সেখানে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকরী হতে দেবে না। কিন্তু কেরলই একমাত্র রাজ্য যে ওই আইনের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে।
কেরল সরকার তার পিটিশনে জানিয়েছে, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সংবিধানের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘন করেছে। তাতে সাম্যের অধিকার মানা হয়নি। ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
পিটিশনে নির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব আইন সংবিধানের ১৪, ২১ ও ২৫ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করেছে। ১৪ নম্বর ধারায় সব নাগরিককে সমান অধিকার দেওয়া হয়েছে। ২১ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘আইনসঙ্গত পথে ছাড়া কোনও নাগরিককে জীবনের অধিকার ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।’ ২৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, ‘প্রত্যেক ব্যক্তি তাঁর বিবেক অনুযায়ী কাজ করতে পারবেন।’
১১ ডিসেম্বর সংসদে নাগরিকত্ব আইন পাশ হয়। আইনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় কারণে নিপীড়িত হয়ে যাঁরা ভারতে পালিয়ে এসেছেন, তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। এর পরে দেশ জুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। অনেক জায়গায় আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ নেয়। উত্তরপ্রদেশে গুলিতে অন্তত ২০ জন মারা যান। পুলিশ অবশ্য বলেছে, মাত্র এক জায়গায় গুলি চালানো হয়েছিল।