দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনের পরে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন চিটিংবাজির ভোট হয়েছে। এও বলেছিলেন, পুরভোটে ব্যালট ফেরাবেন তিনি।
কিন্তু সময়ে পুরভোট হয়নি। কোভিড এসে সবটা ঘেঁটে দিয়েছিল। তারমাঝে একুশের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল বিপুল আসন নিয়ে তৃতীয়বার সরকারে এসেছে। ভোট হয়েছে ইভিএমেই। তৃণমূল সহ বিরোধীদের দাবি মেনে অনেক ইভিএমেই ছিল ভিভিপ্যাট। এখন যখন পুরভোট হতে চলেছে তখন দেখা যাচ্ছে, ব্যালট তো নয়ই বরং ভিভিপ্যাটহীন ইভিএমের পক্ষে শুক্রবারও আদালতে জোর সওয়াল করল রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পরে প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের বেঞ্চ জানিয়েছে, আগামী সোমবার পুরভোট মামলায় রায় দেওয়া হবে।
এদিন কোন পথে এগলো শুনানি?
এখানে বলে রাখা ভাল, একসঙ্গে সব পুরসভার ভোট, ইভিএমের সঙ্গে ভিভিপ্যাট ব্যবহারের মতো একাধিক বিষয়ে ক্লাব করে মামলা চলছে। আগেই কমিশন জানিয়েছিল, একসঙ্গে সব পুরসভায় ভোট করার মতো পর্যাপ্ত ইভিএম রাজ্য নির্বাচনের হাতে নেই। যে কমিশনকে বিরোধীরা বলছেন, তৃণমূল কংগ্রেস বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেটোয়া কমিশন। তাঁদের বক্তব্য, এই কমিশন সাংবিধানিক কোনও নিয়মকানুন মানছে না।
এদিন আদালত কমিশনের কাছে জানতে চায়, যে ইভিএম কমিশনের কাছে আছে তা ব্যবহারের পরেও আট হাজার ৪৭৭টি ইভিএম পড়ে থাকবে। তা দিয়ে কি অন্য পুরসভায় ভোট করানোর কথা ভেবেছে কমিশন? ভিভিপ্যাট নিয়েই বা এত অনীহা কেন?
জবাবে কমিশন বলে, এম-৩ মেশিনে ভিভিপ্যাট সাপোর্ট করে। এম-১ ও এম-২তে করে না। রাজ্যের হাতে এম-৩ মেশিন নেই। কমিশন এও বলে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে স্থানীয় নির্বাচন হয় এম-১ ও এম-২ মেশিনেই। সেখানে ভিভিপ্যাট থাকে না। সম্প্রতি ওড়িশা, কর্ণাটক, বিহারের স্থানীয় নির্বাচনের উদাহরণ দেয় কমিশন।
এ ব্যাপারে কমিশনের সুরে গলা মেলান অ্যাডভোকেট জেনারেলও। একসঙ্গে সব পুরসভা ভোট কেন নয়, কেন কলকাতা আগে এ ব্যাপারে এদিন নবান্নের তরফে এজি বলেন, কলকাতায় টিকাকরণের হার অনেক বেশি। চিকিৎসা পরিকাঠামোও অনেক উন্নত। সেই কারণেই আগে কলকাতার ভোট করানো হচ্ছে। এটা রাজ্য সরকারের কাছে একটা পরীক্ষা।
যদিও বিরোধীদের বক্তব্য, যে মমতা এতদিন গোটা ইভিএম বন্দোবস্তকে সন্দেহের তালিকায় দেখতেন, দু’বছর আগেও ভিভিপ্যাট ব্যবহার করে হওয়া ভোটের ফলাফলকে চিটিংবাজির ভোট বলেছিলেন, তাঁর সরকারই এখানে শতাধিক পুরসভার ভোট ভিভিপ্যাট ইভিএমে করাতে চাইছেন। সন্দেহ হবে না!