দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি বছরের শুরুতেই হিন্দু দেবদেবীদের অবমাননার অভিযোগে মধ্যপ্রদেশে গ্রেফতার হয়েছিলেন স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান মুনাওয়ার ফারুকি। গত ২৮ জানুয়ারি মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দিতে অস্বীকার করে। কিন্তু শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে জামিন পেলেন কমেডিয়ান। একইসঙ্গে মধ্যপ্রদেশ সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত।
মধ্যপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক মালিনী গৌরের ছেলে একলব্য সিং গৌর অভিযোগ করেন, গত ১ জানুয়ারি একটি শো-তে মুনাওয়ার ফারুকি ও আরও চারজন হিন্দু দেবদেবীদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন। সেই চারজন হলেন এডুইন অ্যান্টনি, নলিন যাদব, প্রখর ব্যাস এবং প্রিয়ম ব্যাস। একইসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও কটূক্তি করারও অভিযোগ ওঠে।
ফারুকির জামিনের আবেদন নাকচ করে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট বলেছিল, এখনও পর্যন্ত যে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গিয়েছে, তাতে মনে হয়, স্ট্যান্ড আপ কমেডির নামে প্রকাশ্য স্থানে পাবলিক শো-এর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভারতের নাগরিকদের একাংশের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া হয়।
ফারুকির আইনজীবী বলেন, পাবলিক শো-এর উদ্যোক্তারা কমেডিয়ানকে আমন্ত্রণ করেছিলেন। তিনি শো-তে উপস্থিত ছিলেন বটে কিন্তু কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু বিচারপতি এই যুক্তি মানতে চাননি। তিনি বলেন, উত্তরপ্রদেশেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একই মামলা রয়েছে।
হাইকোর্ট লক্ষ করেছে, অনেকেই অভিযোগ করেছে, ফারুকি গত ১৮ মাস ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দু দেবদেবীদের উদ্দেশে কটূক্তি করে চলেছেন। অনেকেই তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ করেছেন। কিন্তু ফারুকি তাতে বিরত হননি। বিচারপতি বলেন, "প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক কর্তব্য হল ধর্মীয়, ভাষাগত, আঞ্চলিক ও গোষ্ঠীগত সুসম্পর্ক বজায় রাখা।"
ধৃত পাঁচজনের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ করা হয়েছে। প্রথমত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়া। দ্বিতীয়ত, ইচ্ছাকৃতভাবে একটি ধর্মের মানুষকে আঘাত করা। তৃতীয়ত, ছোঁয়াচে রোগ থেকে সতর্কতা না নেওয়া। চতুর্থত, সরকারি কর্মীর আদেশ লঙ্ঘন করা।
কুণাল কামরা নামে আরও এক স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আদালত অবমাননার মামলা করা হয়েছে। সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী জামিন পাওয়ার পরে সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে 'আপত্তিকর' টুইট করেছিলেন ওই স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপালের অনুমতি চান দু'জন আইনের ছাত্র ও কয়েকজন আইনজীবী। বেণুগোপাল তাঁদের অনুমতি দেন। মামলার কথা শুনে কমেডিয়ান আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি টুইট করার জন্য ক্ষমা চাইবেন না। কোর্ট তাঁর জরিমানা করলে তাও দেবেন না।
মুম্বইয়ের ওই কমেডিয়ান এদিন টুইট করে বলেন, "অতীতে যা টুইট করেছি, তার জন্য ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই নেই। আমার বিশ্বাস, ওই টুইট পড়েই সবাই বুঝবেন, আমি কী বলতে চেয়েছি।" পরে তিনি বলেন, "নো ল-ইয়ারস, নো অ্যাপোলজি, নো ফাইন, নো ওয়েস্ট অব স্পেস।" অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মামলা হলে তিনি নিজের জন্য আইনজীবী নিয়োগ করবেন না, ক্ষমা চাইবেন না, জরিমানাও দেবেন না। ওই টুইট করার জন্য টুইটারে ইতিমধ্যে অনেকে কুণাল কামরাকে ট্রোল করেছেন।