দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'ভদ্রসভ্য' পোশাক পরে ভক্তদের মন্দিরে আসার নিদান দিলেন মহারাষ্ট্রের শিরিডির সাঁইবাবা মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাঁদের দাবি, 'ভারতীয় সংস্কৃতি' রক্ষা করে তবেই এই পবিত্র জায়গায় এসে প্রার্থনা করা যাবে। স্বাভাবিক ভাবেই মন্দির কর্তৃপক্ষের এ বক্তব্য জানাজানি হতেই প্রতিবাদ করেছেন অনেকে। পোশাকের ভদ্রতা কীসে রক্ষিত হবে, ভারতীয় সংস্কৃতিই বা কীসে নষ্ট হবে-- সেটা মন্দির কর্তৃপক্ষ ঠিক করার কেউ নন বলেই মনে করছেন অনেকে, বিশেষ করে আধুনিক প্রজন্মের প্রতিনিধিরা।
শ্রী সাঁইবাবা সংস্থান ট্রাস্টের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসারের সঙ্গে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, সিইও কানহুরাজ বাগাতে জানান, এটা শুধুই একটা অনুরোধ। মন্দির কর্তৃপক্ষ ভক্তদের উপর কোনও ড্রেসকোডের বোঝা চাপাচ্ছেন না।
তাঁর দাবি, মন্দিরে আসা অনেক ভক্তই নাকি মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন, যে অনেকেই এমন 'আপত্তিজনক' পোশাক পরে শিরিডির মন্দিরে চলে আসছেন, যে তা অস্বস্তির কারণ হচ্ছে। মিস্টার বাগাতে বলেন, "যেহেতু এটি একটি পবিত্র পুণ্যভূমি, তাই আমরা ভক্তদের কাছে অনুরোধ করছি তাঁরা যেন 'ভদ্রসভ্য' পোশাক পরে মন্দিরে আসেন।"
বস্তুত, মন্দিরে ঢোকার সময়ে পোশাক কেমন হবে, তা নিয়ে সমস্যা এই প্রথম নয়। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে। ওড়িশার পুরীর জগন্নাথদেবের মন্দিরেও বহুবারই পোশাক নিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছেন বহু মহিলা। এমনকী বাংলার নবদ্বীপ ধামেও এই সমস্যা আছে। মুক্তমনাদের দাবি, ২০২০ সালে পোশাকের দৈর্ঘ্যের উপর ভক্তি নির্ভর করে না। তা উচিতও নয়। কিন্তু মন্দির কর্তৃপক্ষগুলি অবশ্য এ যুক্তি শুনতে নারাজ।
গত বছরের শবরীমালা মন্দিরের কথাও অনেকেরই মনে আছে। সেখানে নিয়ম ছিল, ১২ বছরের বেশি ও ৫০ বছরের কম বয়সি কোনও মহিলা ঢুকতেই পারবেন না, কারণ ঋতুমতী মহিলা ঢুকলে ঈশ্বর অপমানিত হবেন, তাঁর ধ্যানও ভঙ্গ হবে। এ নিয়ে মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। অনেকেরই অভিযোগ, এমন একটি প্রাচীন ধ্যানধারণা আঁকড়ে থাকা কোনও রকম ভাবেই প্রগতিশীলতার পরিচয় নয়।
ফের একই রকম 'রিগ্রেসিভ' মানসিকতার পরিচয় দিল সাঁইবাবা মন্দির। এর পরে এই পোশাক নিয়ে তারা কোনও নিয়ম আনে কিনা, সেটাই দেখার।