
কলেজে ভর্তি কমছে।
শেষ আপডেট: 8 July 2024 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারেও প্রায় ৪০ শতাংশ আসন ফাঁকা থেকে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে! গত বছর এই হার ছিল ৪১ শতাংশ। ভর্তির 'অভিন্ন পোর্টাল' চালু হয়েও এবছরে উচ্চশিক্ষার এই করুণ ছবিটা বদলাল না।
কলেজে ভর্তির জন্য চালু হবে অভিন্ন পোর্টাল, একথা রাজ্য শিক্ষা দফতর আগেই জানিয়েছিল। গত কয়েক বছর ধরে কলেজে ভর্তি নিয়ে একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে, বারবার কাঠগড়ায় উঠেছে রাজ্যের শাসকদলের ছাত্র সংগঠন। এই পরিস্থিতিতেই দীর্ঘ টালবাহানার পরে চালু হয়েছে এই পোর্টাল। এর মাধ্যমে সরাসরি অনলাইনে আবেদন করে পছন্দের কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন পড়ুয়ারা। ভরসা করতে হয় না কোনও সংগঠনের উপর।
গতকাল, রবিবার ছিল এই পোর্টালের মাধ্যমে স্নাতক স্তরে ভর্তির আবেদনের শেষ দিন। তার পরেই অনেক আসন খালি থাকার আশঙ্কার ছবি স্পষ্ট হয়েছে।
রাজ্যে গত তিন-চার বছর ধরেই কমে যাচ্ছিল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক স্তরে পড়ুয়া ভর্তির সংখ্যা। সব আসন পূরণই হচ্ছিল না। শিক্ষা জগতে চর্চা শুরু হয়, কেন এমন হচ্ছে। একদিকে যেমন উঠে আসে উচ্চশিক্ষায় রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের অনীহার কথা, তেমনি এক শ্রেণির তরফে অভিযোগ আসে, ভর্তি নিয়ে দুর্নীতিই এর কারণ। সেই কারণেই শুরু হয় ভর্তির অভিন্ন পোর্টাল।
জানা গেছে, ওই পোর্টালের মাধ্যমে যত আবেদন এসেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের প্রায় সাড়ে ন’লক্ষ আসনের জন্য জমা পড়েছে ৩০ লক্ষ আবেদন। অর্থাৎ এক একটি আসন পিছু গড়ে তিনজন করে পড়ুয়া আবেদন করেছেন।
শিক্ষাবিদদের মতে, এই হিসেব আশাজনক নয়। এক একটি আসনে অন্তত ছ'সাতজন আবেদনকারী থাকলে সব আসন পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারণ এক একজন পড়ুয়া সাধারণত একাধিক আবেদন করে থাকেন। কিন্তু ভর্তি তাঁরা একটি আসনেই হন। ফলে বাকিগুলি ধর্তব্যের মধ্যে আসে না। সেই হিসেবে, মনে করা হচ্ছে, সব মিলিয়ে পাঁচ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ভর্তির জন্য আবেদন করে থাকতে পারেন। সে ক্ষেত্রে, ১০০ শতাংশ ভর্তি হয়ে গেলেও ৪০ শতাংশ আসন খালি থাকবে।
শুধু তাই নয়, জেনারেল সিটের বাইরে যে সংরক্ষিত আসনগুলি রয়েছে, সেগুলির জন্য পর্যাপ্ত আবেদন এমনিতেই পাওয়া যায় না। নানা সমস্যাও হয়। যেমন আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির জন্য যে ১০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত রয়েছে, সেখানে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় শংসাপত্র দেওয়াই শুরু করেনি রাজ্য। ফলে তাতে পড়ুয়া ভর্তি নিয়ে সংশয় থাকছে।
তবে রাজ্যের কিছু ভাল কলেজে আবেদনের সংখ্যা বেশি। বেথুন, আশুতোষ, সিটি, জয়পুরিয়া-সহ কলকাতার বেশ কিছু কলেজে একটি আসন পিছু ১০ জনের বেশি আবেদন করেছেন। সবচেয়ে বেশি আবেদন জমা পড়েছে গোয়েঙ্কা কলেজ অব কমার্স এন্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ভর্তির জন্য। সেখানে মোট আসন সংখ্যার প্রায় ২০ গুণ আবেদন জমা পড়েছে।
এখন দেখার, ভর্তির প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরে কত আসন ফাঁকা পড়ে থাকে।