
শেষ আপডেট: 8 January 2024 18:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংরেজ মহাকবি শেক্সপীয়র যাই বলে থাকুন, নামে অনেক কিছুই এসে যায়। যদি সেটা না হত, তাহলে ভজগোবিন্দ বা তারাসুন্দরীর কাগজে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সায়ন্তন বা শর্মিলা হওয়ার দরকার পড়ত না। পিতৃদত্ত নাম বদলে ‘স্মার্ট’ এবং চমকপ্রদ নাম নেওয়ার রেওয়াজ বহুদিন ধরেই চালু আছে সিনেমা বা দূরদর্শনের অভিনেতা-অভিনেত্রীদের মধ্যে। আমজনতারও একটি বড় অংশ নিজের নামে তৃপ্ত নন। কেউ বদলান কেউ নিজেকে থিতু রাখেন। কিন্তু চমকে উঠতে হয়, যখন জানা যায় কোনও বিখ্যাত ব্যক্তি নিজের নাম পছন্দ না হওয়া সত্ত্বেও স্রেফ বাবা-মায়ের কথা ভেবে নামটি বহন করে চলেছেন।
সোমবার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে পড়ুয়া সপ্তাহ বা ‘স্টুডেন্ট উইক’ পালনের উদ্বোধনী বক্তৃতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন ‘মমতা’ নামটি তাঁর একেবারেই না-পসন্দ। শুধু অপছন্দই নয়, নামটি বেশ ‘পচা’ বলেই তিনি মনে করেন। কিন্তু একই সঙ্গে তিনি জানান, নামটি তিনি শিরোধার্য করেছেন বাবা-মা-র আশীর্বাদ হিসেবে।
এই উন্মোচন যথেষ্ট চমকপ্রদ সন্দেহ নেই, বিশেষ করে বিরোধী নেত্রী হিসেবে যাঁর লড়াই বহু মানুষকে এতটাই অনুপ্রাণিত করেছে যে তাঁদের অনেকেরই সন্ততির নাম রেখেছেন ‘দিদি’র নামে। মুখ্যমন্ত্রীর এহেন ঘোষণা শুনে এখন তাঁরা নিজেদের কপাল চাপড়াবেন কিনা স্পষ্ট করে বলা না গেলেও, নিশ্চিত করে বলা যায় কিছুটা হতাশ তো হবেনই।
২০১১ সালের আগে বুহু মিছিলেই স্লোগান উঠত ‘সিপিএমের ক্ষমতা, কেড়ে নেবে মমতা।‘ কেড়ে নিয়েছিলেনও। কিন্তু নামটাই যদি না থাকত অর্থাৎ কিনা অন্য কিছু হত, তাহলে এই স্লোগানটিই যে তৈরি হত না সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। প্রশ্ন হল মমতা এবং ক্ষমতার ধ্বনিগত সাযুজ্য যদি প্রতিষ্ঠিত না হত তাহলে কি বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হত? সম্ভবত নয়, কারণ মহাকবি আপাতভাবে সঠিক কথা না বললেও শেষবিচারে হয়ত সত্যি কথাই বলেছিলেন। যা ভজগোবিন্দের ক্ষেত্রে না হলেও মমতার ক্ষেত্রে অস্বীকার করার উপায় নেই।