
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 2 April 2025 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাথরপ্রতিমায় (Patharpratima Blast) যে ঘটনা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে নবান্নর (Nabanna) সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তুললেন সচেতনতার প্রসঙ্গ। এক জায়গায় কেন রান্নার গ্যাস আর বাজি থাকবে, সেই প্রশ্ন করেন তিনি।
মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে বলা হয়েছিল, আদতে কীভাবে আগুন লেগেছে তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। আগে বাজি থেকে আগুন লেগেছে, তারপর গ্যাস সিলিন্ডার ফেটেছে, নাকি গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে আগুন লেগে তারপর মজুত রাখা বাজিতে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটাই এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাসের এই সময়টায় আগুন লাগার প্রবণতা বাড়ে। তাঁর খারাপ লাগছে এইভাবে একটা গোটা পরিবার শেষ হয়ে গেল। এই বিষয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, 'গ্যাস সিলিন্ডার আর বাজি কি এক সঙ্গে থাকা উচিত?' মমতা মনে করেন, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত সকলের।
রাজ্য পুলিশের তরফে বলা হয়েছিল, এটা দুর্ঘটনা। গত ১০ বছর ধরে এই বাজি কারখানা চলছিল। তবে তাদের কী লাইসেন্স ছিল, কারখান বৈধ না অবৈধ, কীসের ভিত্তিতে বাজি মজুত থাকত, গোটা বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে রাজ্য পুলিশও বলেছে, সাম্প্রতিক অতীতে এই ধরনের যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছে তা থেকে স্পষ্ট যে, সচেতনতার অভাব রয়েছে। এই ইস্যুতে বাজি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে তাঁরা আলোচনায় বসবেন। প্রথমেই জনবসতি নেই এমন জায়গায় বাজি মজুত করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেফ স্টোরেজের জায়গা আইডেন্টিফাই করতে হবে।
বাজি কারখানায় যাতে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা হয় সেই আবেদন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, এক জায়গায় দাহ্য পদার্থ রাখলে যে কোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যম ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়া মারফৎ সতর্কবার্তা ছড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সরকার সবরকমভাবে প্রস্তুত এই ধরনের বিষয় নিয়ন্ত্রণ করতে।
গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ আচমকা বিকট শব্দ শোনা যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার ঢোলাহাট থানার রায়পুরের তৃতীয় ঘেরি এলাকায়। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ গিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমার বণিক পরিবারের আট সদস্যের। যাঁদের মধ্যে রয়েছে দু'জন সদ্যোজাত-সহ চার শিশুও। এই ঘটনা ঘটেছে সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন মনোভাব এবং সচেতনতার অভাবে বলে দাবি করেছে পুলিশ। সেই একই সুর রাজ্যের পুলিশমন্ত্রীর গলাতেও।