দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবাদ মিছিলে গুলি চালিয়ে জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াকে জখম করার ঘটনায় নাবালক দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু করল দিল্লি পুলিশ। একাদশ শ্রেণির ছাত্র, ১৭ বছরের ওই কিশোরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনেও মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে একটি দেশি বন্দুক কেনে রামভক্ত গোপাল নামের ওই কিশোর। তার পর থেকেই এই হামলার পরিকল্পনা করছে সে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রামভক্ত গোপাল অভিযুক্তের ফেসবুক প্রোফাইলের নাম। তার আসল নাম কী, সেবিষয়ে পুলিশ এখনও কিছু জানায়নি।
পুলিশের দাবি, বন্দুকটি হাতে পাওয়ার পর থেকেই সে নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে যাঁরা বিক্ষোভ দেখাচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করে ওই কিশোর। তার ফেসবুক প্রোফাইলও সেই কথাই বলছে। বারবার প্রকাশ্যে আন্দোলনকারীদের হামলা করার কথা বলেছে সে। 'খেল খতম' করার হুমকিও দিয়েছে। এমনকি বৃহস্পতিবারের ঘটনার আগে সে লাইভ ভিডিও পোস্ট করে ফেসবুকে। দাবি করে, হিন্দু ধর্ম রক্ষার স্বার্থে এই কাণ্ড ঘটাতে চলেছে সে।
লাইভ ভিডিওর আগেও সে একের পর এক পোস্ট করছিল নানা অসাংবিধানিক কথা। গুলি চালানোর কথাও লেখা ছিল তাতে। পোস্টগুলি দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায়, সে মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই এই হামলা করতে চলেছে। এমনকি এই হামলা করার পরে তাঁর কী হতে পারে, তাও আন্দাজ করেছিল সে। তাই একটি পোস্টে লেখে, ‘‘আমার শেষযাত্রায় গেরুয়া দিয়ে মুড়ে দিও আমায়, স্লোগান দিও ‘জয় শ্রী রাম’।”
রামভক্ত গোপালের গুলি চালানোর যে ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, তাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, গুলি চালানোর সময়ে তার পরনে ছিল কালো রঙের জ্যাকেট। তাকে গোপনে এদিক ওদিক তাকাতে দেখা যাচ্ছিল। ‘ইয়ে লো আজাদি’ বলতে বলতে গুলি চালাচ্ছিল সে। সেই ভিডিওর কিছু আগে নিজেও পিস্তল উঁচিয়ে লাইভ করে ‘বদলা’ নেওয়ার কথাও বলেছিল সে। ভিডিওয় সে দাবি করেছে, নিজের ধর্ম রক্ষা করতে যাচ্ছে সে। “জামিয়ার গদ্দারদের খেল খতম” করতে সে গুলি চালাবে বলে দাবি করে প্রকাশ্য ভিডিওয়। তাতে বহু মানুষ সমর্থনও করে তাকে।
কিছুদিন আগেই দিল্লির একটি জনসভায় কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর স্লোগান তুলেছিলেন, “দেশকি গদ্দারো কো…”, তাতে জনতা গলা মিলিয়েছিল, ” গোলি মারো শালো কো।” এর পরেই এভাবে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটল প্রকাশ্য রাজপথে। বিরোধীরা সেটাকেই জুড়ে দিতে চেয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার স্কুলে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে প্রায় ৭০ কিলোমিটার পথ বাসে করে উজিয়ে দিল্লি চলে আসে উত্তর প্রদেশের গৌতমবুদ্ধ নগরের বাসিন্দা রামভক্ত গোপাল। দুপুরে যখন রাজঘাট এলাকায় জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সিএএ-প্রতিবাদীদের মিছিল চলছে, সেখানে ঢুকে পড়ে বন্দুক হাতে। সামনে থেকে গুলি চালায় মিছিল উদ্দেশ্য করে। তার আগে চেঁচিয়ে বলে, "এই নে আজাদি!"
জামিয়ার মাস কমিউনিকেশনস বিভাগের পড়ুয়া সাদাফ ফারুক আহত হন ওই গুলিতে। হোলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি।
ঘটনার পরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিল্লি পুলিশকে নির্দেশ দেন, অপরাধীকে রেয়াত না করতে। টুইট করে লেখেন, “কেন্দ্রীয় সরকার এই ধরনের ঘটনাকে বরদাস্ত করবে না। কোনও ভাবেই রেয়াত করা হবে না অপরাধীকে।” তার পরেই সাত-তাড়াতাড়ি মামলা রুজু হয় রামভক্ত গোপালের বিরুদ্ধে।