দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বপ্ন দেখত, স্টিফেন হকিং-এর মতো বড় মাপের বিজ্ঞানী হওয়ার। পড়াশোনাতেও তুখোড় ছিল সে। তবে তার স্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ির লোকজনের দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ ছিলই। কারণ ছোট থেকেই দুরারোগ্য মাসকুলার ডায়স্টোফি অসুখে ভুগছিল সে। হুইলচেয়ারে বন্দি হয়ে পড়ে একটা সময়ে। কিন্তু সিবিএসই-র ক্লাস টেনের পরীক্ষা চলাকালীনই যে কঠিন রোগে তার মৃত্যু হবে, তা হয়তো কল্পনা করতে পারেনি কেউই। প্রথম তিনটি পরীক্ষা দেওয়ার পরেই ফুরিয়ে যায় তার জীবন।
নয়ডার বিনায়ক শ্রীধর নামের এই কিশোরের মৃত্যু আর পাঁচটা অকালমৃত্যুর মতোই করুণ কাহিনি হতে পারত। কিন্তু সিবিএসই-র ফল প্রকাশের পরে এই মৃত্যুই নতুন করে নাড়িয়ে দিল সকলকে। কারণ বিনায়ক যে তিনটি পরীক্ষা দিয়েছিল, সব ক’টিতেই প্রায় একশোর কাছাকাছি নম্বর। যা দেখে তার পরিবারের মতোই গভীর শোকে আচ্ছন্ন তার স্কুলের শিক্ষকরাও।
ছোট থেকেই বিনায়কের স্বপ্ন ছিল স্টিফেন হকিংয়ের মতো হওয়ার। সেই মতো নিজেকে আস্তে আস্তে তৈরিও করছিল সে। কিন্তু বড় তাড়াতাড়ি ফুরিয়ে গেল নয়ডার ক্লাস টেনের ওই পড়ুয়ার জীবন। নামী একটি বেসরকারি স্কুলে পড়ত মেধাবী কিশোরটি। সিবিএসই পরীক্ষাও দেয় সেখান থেকেই। কিন্তু মাত্র তিনটি পরীক্ষা দিয়েই মারা যায় সে। বাকি দু'টি আর দেওয়া হয়নি।
সোমবার সিবিএসই-র ক্লাস টেনের ফলপ্রকাশ হতেই দেখা যায় যে, বিনায়ক ইংরেজিতে পেয়েছে ১০০, বিজ্ঞানে ৯৬ ও সংস্কৃতে ৯৭। ছেলের ফল দেখে কেঁদে ফেলেন বিনায়কের মা মমতা। আবেগঘন গলায় তিনি বলেন, “ছোট থেকেই ও বলত, সব অসুখ জয় করে শুধু মাথার জোরে স্টিফেন হকিংয়ের মতো হবে ও। সারা ক্ষণ বিজ্ঞান নিয়ে থাকতে ভালবাসত।”
বিনায়কের মা জানান, ছেলের স্নায়ুর কঠিন রোগ ছিল ছোট থেকেই। শরীরে ডায়াট্রোফিন নামক এক প্রোটিনের অভাবে এই রোগ শরীরে বাসা বাঁধে। জিনঘটিত এই সমস্যায় পেশির নড়াচড়া খুবই সীমিত হয়ে যায়। এই জটিল সমস্যা সত্ত্বেও কোনও বিশেষ সুবিধা নিতে চাইত না সে। মমতাদেবী বলেন, "পেশির সমস্যা থাকায় ও স্বাভাবিক ভাবে ঘোরাফেরা করতে পারত না। হুইলচেয়ার ছাড়া নড়াচড়া করতে সমস্যা হতো। কিন্তু ওর আত্মবিশ্বাস, উদ্যম দেখলে কে বলবে, শরীরে এত সমস্যা!"
চিকিৎসকেরাও বলে দিয়েছিলেন, বেশি দিন বাঁচার সম্ভাবনা নেই বিনায়কের। কিন্তু পরীক্ষার মাঝপথেই যে সকলকে ছেড়ে চলে যাবে সে, তা কেউ ভাবতেও পারেননি।
মহাকাশচারী হওয়ার স্বপ্ন দেখত শ্রীধর। স্টিফেন হকিংয়ের মতো সমস্ত প্রতিবন্ধকতাকে হারিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নিজেকে সেরা প্রমাণ করার ইচ্ছে ছিল তার। হকিংয়ের জীবনযুদ্ধের লড়াই অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল ছোট্ট ছেলেটির মনে।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শ্রীধরকে ঘিরেই কাটত মা মমতাদেবীর। এখন আর সে নেই। দাঁত মাজানো থেকে খাইয়ে দেওয়া-- প্রতিটি স্মৃতি আজও জীবন্ত মমতার কাছে। কিন্তু শোক আর গর্ব যেন মিলেমিশে গিয়েছে তাঁর আজ। কারণ যে মেধার জোরে স্বপ্ন দেখত বিনায়ক, সেই মেধার কাছে আজ হেরে গেছে তার মৃত্যু। তাই তো গোটা দেশ আজ কুর্নিশ করছে শ্রীধরের পরীক্ষার রেজাল্টকে।