
কল্যাণী জেএনএম - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 September 2024 11:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরজি কর হাসপাতালের ঘটনার পরই ‘থ্রেট সিন্ডিকেট’ নিয়ে সরব হয়েছিলেন জুনিয়র ডাক্তাররা। যে ৫ দফা দাবি নিয়ে তাঁরা আন্দোলন শুরু করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল ‘থ্রেট সিন্ডিকেট’ বন্ধ করা। সেই সংক্রান্ত পদক্ষেপও সরকারের তরফে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই আবার ‘থ্রেট সিন্ডিকেট’ চালানোয় অভিযুক্ত ছাত্রদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে কল্যাণী কলেজ অফ মেডিসিন জেএনএম হাসপাতাল। ৪০ জন ছাত্রকে 'বহিষ্কার' করেছে কর্তৃপক্ষ।
‘থ্রেট সিন্ডিকেট’ নামের সঙ্গে অভীক দে নামটাও এখন জড়িয়ে গেছে। অভিযোগ, তাঁর অনুগামীরাই কল্যাণী জেএনএম-এ এই 'কালচার' চালাতেন। পড়ুয়াদের অনেকেরই দাবি, সদ্য অপসারিত অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে প্রাক্তন হস্টেল সুপার একাধিক অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এঁদের সবার অঙ্গুলিহেলনেই একটা সিন্ডিকেট চলত। স্নাতকোত্তর স্তরের একাধিক ছাত্রের নামও উঠে এসেছে এই বিষয়ে। তাদের মধ্যেই ৪০ জনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ছ’মাস তাঁরা পরীক্ষা ও তদন্ত সংক্রান্ত বিষয় বাদে অন্য কোনও কারণে কলেজ, হস্টেল বা হাসপাতালে ঢুকতে পারবেন না।
নবান্নে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক গিয়ে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলির অভ্যন্তরের নিরাপত্তা-সুরক্ষার প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাঁদের দাবি মেনেই বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্নের তরফে একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্যভবনে। সেখানে প্রতিটি মেডিক্যাল কলেজ ও সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা কর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তায় স্বাস্থ্য দফতরকে দশটি পয়েন্ট উল্লেখ করে তা দ্রুত রূপায়ণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যসচিবের তরফে স্বাস্থ্যসচিবকে পাঠানো নির্দেশিকায় পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা-সুরক্ষা এবং পরিকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজে পর্য়াপ্ত সংখ্যক সিসিটিভি, পানীয় জলের ব্যবস্থা, শৌচালয়, বিশ্রাম কক্ষ, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে। চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও দ্রুত গড়ে তুলতে হবে।
একই সঙ্গে এও বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে একটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করতে হবে। প্রতিটি হাসপাতালে অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ কমিটি গড়তে হবে। ওই কমিটি অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখবে। প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষ অ্যালার্ম সিস্টেম চালু করার কথাও বলা হয়েছে। যাতে কেউ কোনও বিপদে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য পেতে পারেন।