দ্য ওয়াল ব্যুরো : দেশ জুড়ে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রতিবাদের মুখেও সরকার নিজের অবস্থানে অনড়। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রে মোদী সরকারের কড়া সমালোচনা করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাকিস্তানের হিন্দুদের কথা ভাবার আগে কেন্দ্রীয় সরকার বরং দেশের জন্য কিছু করুক। একইসঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভায় যেভাবে ওই আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ হয়েছে, তাতেও আপত্তির কথা জানান ওই আপ নেতা।
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কেরলের মতো দিল্লি বিধানসভাতেও কি নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করানো হবে? তিনি বলেন, "বিধানসভায় প্রস্তাব হল কি না হল তাতে কিছু যায় আসে না। পুরো দেশকেই ওই আইন বাতিল করতে হবে। সংসদে আইন বাতিল করতে হবে।" পরে তিনি প্রশ্ন করেন, "আমাদের বিধানসভায় যদি প্রস্তাব পাশ করানো হয়, তা হলে কি আইন বাতিল হয়ে যাবে?"
কেজরিওয়ালের বক্তব্য, এই সময় এমন আইন করা হল কেন বুঝতে পারছি না। তাঁর কথায়, "পাকিস্তানের হিন্দুদের প্রতি সরকার এত ভালবাসা দেখাচ্ছে, কিন্তু ভারতের হিন্দুদের প্রতি দেখাচ্ছে না কেন? অর্থনীতির অবস্থা খারাপ, মানুষের বাসস্থান নেই, চাকরি নেই, এমন সময় সরকার ভাবছে পাকিস্তানের দু'কোটি হিন্দুকে নাগরিকত্ব দেবে। আগে নিজের দেশের সমস্যা সমাধানে মনোযোগ দেওয়া উচিত।"
কেজরিওয়ালের মতে, নতুন আইনে হিন্দু ও মুসলমান উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দুই ধর্মের মানুষই নাগরিকত্ব হারাবেন।
এই প্রসঙ্গে নিজের এক অভিজ্ঞতার কথা বলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, "কিছুদিন আগে দিল্লির বুরারি অঞ্চলে এক ব্যক্তির সঙ্গে আমার আলাপ হয়েছিল। তিনি বিহার অথবা উত্তরপ্রদেশ, কোনও একটি রাজ্য থেকে দিল্লিতে এসেছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার বার্থ সার্টিফিকেট আছে কি? তিনি বললেন, আমি বাড়িতে জন্মেছিলাম। আমার বার্থ সার্টিফিকেট নেই। আমার বাবা-মায়েরও নেই। আমি তাঁকে বললাম, অব কেয়া করোগে? এবার তো তোমাদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।"