
চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমান।
শেষ আপডেট: 3 July 2024 14:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোপড়ায় তরুণ-তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তাজম্মুল ওরফে জেসিবির পাশে দাঁড়িয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে চোপড়ার বিধায়ক হামিদুল রহমানকে ইতিমধ্যে শোকজ করেছে দল। ঘটনার পরই বিধায়ক বলেছিলেন, নির্যাতিতা যুবতী অসামাজিক কাজে জড়িত ছিলেন। তাঁকে শাসন করতে গিয়ে একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে জেসিবি। মুসলিম রাষ্ট্রে এমন বিচার হয়েই থাকে!
বুধবার বিধানসভায় এসেছিলেন বিধায়ক হামিদুল। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, নিজের মন্তব্যের জন্য তিনি কি অনুতপ্ত? জবাবে তৃণমূল বিধায়ক পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, "প্রধান অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে, বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে, এখন এসব কথা বলার কি অর্থ?"
একই সঙ্গে বিধায়কের দাবি, "আমি কোনও অসম্মানজনক মন্তব্য করিনি। অন্যায় হয়েছিল বলেই বলেছিলাম। কিন্তু আমার মন্তব্যকে বিকৃত করা হয়েছে, তাতে মহিলার অসম্মান হওয়ার জন্য আমি দুঃখপ্রকাশও করেছি।"
রবিবার দুপুরে চোপড়ার তৃণমূল নেতা তাজম্মুলের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে (দ্য ওয়াল ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি)। তাতে দেখা যায় এক তরুণীকে রাস্তার মধ্যে ফেলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে বেধড়ক মারছেন তাজম্মুল। যন্ত্রণায় কাতর হওয়া মেয়েটিকে চুলের মুঠি ধরে টেনে তুলে ফের ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে চলছে মার। একইভাবে মারধর করতে দেখা যায় এক তরুণকেও।
এরপরই নিজের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তাজম্মুলের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে নির্যাতিতা মহিলার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিতর্কে জড়়ান বিধায়ক। যার জেরে অস্বস্তিতে পড়তে হয় শাসক শিবিরকে। সেই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব হামিদুলকে শোকজ করেছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে তাঁকে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এদিন অবশ্য হামিদুল দাবি করেন, "জেসিবিকে জড়িয়ে আমার নামে মিথ্যে কথা বলা হচ্ছে। আমি চাই ঘটনায় অভিযুক্ত জেসিবি-সহ প্রত্যেকের কঠোর শাস্তি।"
বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বিধায়কের প্রশ্রয়েই জেসিবির বাড়বাড়ন্ত। বেকায়দায় পড়ে এখন দায় এড়াতে চাইছেন বিধায়ক।