দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াতকে নিয়ে যে হেলিকপ্টারটি উড়ছিল, সেটি ক্র্যাশ করার আগে পর্যন্ত অস্বাভাবিক নীচ দিয়ে উড়ছিল বলে জানা গিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে। শেষ মুহূর্তে সেটি কুয়াশায় মিলিয়ে যায় এবং ভেঙে পড়ে।
বিমানে থাকা বিপিন রাওয়াত, তাঁর স্ত্রী মধুলিকা রাওয়াত-সহ মোট ১৩ জনেরই মৃত্যু হয়েছে। কেবল এক জন প্রাণে বেঁচে গেছেন, গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিং। তিনি বেঙ্গালুরুর হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
কুন্নুরের এক নির্মাণকর্নী জয়াসিলান দুর্ঘটনার সময়ে ঘরেই ছিলেন ছিলেন। ৫৭ বছরের ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি চপার ওড়ার শব্দ পেয়েছিলেন ঘর থেকেই। তার পরে বিকট এক শব্দ শুনে ছুটে বেরিয়ে আসেন ঘর থেকে, দেখেন ভেঙে পড়েছে চপারটি। "জঙ্গল থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছিল, আগুন জ্বলছিল ওখানে। বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল একের পর এক। আমার ভাইয়ের বাড়ির সামনেই ঘটেছে ঘটনাটা।"
জয়াসিলানের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, এত উত্তপ্ত হয়ে গেছিল জায়গাটা, যে তাঁরা ধ্বংসস্তূপের কাছে পৌঁছতেই পারছিলেন না। কিছুক্ষণেই উদ্ধারকারী দল চলে আসে। কিন্তু ঘন জঙ্গল দিয়ে ঢুকে ভেঙে পড়া কপ্টারের কাছে পৌঁছতে তাদেরও বেগ পেতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা, ৪৫ বছরের কুমার বলেন, "প্রথমে কপ্টারের জ্বলন্ত টুকরোগুলোর মধ্যে থেকে চার জনকে বের করে আনা হয়, তাঁদের মধ্যে এক জন জীবন্ত ছিলেন তখনও। চিৎকার করছিলেন যন্ত্রণায়।"
জয়াসিলান জানিয়েছেন, পরে পুলিশ এসে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে, যে জঙ্গলে বা ওই এলাকায় সশস্ত্র কাউকে, সন্দেহজনক কাউকে দেখা গেছে কিনা। এমন কাউকে দেখা যায়নি বলেই জানিয়েছেন জয়াসিলান।
বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ তামিলনাড়ুর সুলুর এয়ারবেস থেকে উড়েছিল বায়ুসেনার কপ্টার এমআই-১৭ভি-৫। তাতেই ছিলেন সিডিএস বিপিন রাওয়াত, তাঁর স্ত্রী, আরও ৭ জন সেনা ও ৫ জন কপ্টার ক্রু। ওয়েলিংটন সেনাঘাঁটিতে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানেই অনুষ্ঠান ছিল জেনারেল বিপিন রাওয়াতের। অবতরণের ঠিক সাত মিনিট আগে কুন্নুর এলাকায় ঘটে যায় দুর্ঘটনা। ভেঙে পড়ে কপ্টার।
বিপিন ও তাঁর স্ত্রী মধুলিকা ছাড়াও মারা গেছেন ব্রিগেডিয়ার এলএস লিড্ডা, লেফটেন্যান্ট কর্নেল হরজিন্দর সিং, নায়েক গুরসেবক সিং, নায়েক জিতেন্দ্র কুমার, ল্যান্সনায়েক বিবেক কুমার, ল্যান্সনায়েক বি সাই তেজা, হাবিলদার সৎপাল রাই। হেলিকপ্টারটি চালাচ্ছিলেন উইং কমান্ডার পৃথ্বী সিংহ চৌহান।
এছাড়াও ছিলেন ৫ জন কপ্টার ক্রু, যাঁদের মধ্যে গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিং মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন হাসপাতালে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে কালই ওয়েলিংটনের সেনা হাসপাতাল থেকে বেঙ্গালুরুর কম্যান্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কাল রাতেই তামিলনাড়ু থেকে দিল্লি এসে পৌঁছেছে সকলের দেহ। আজ, শুক্রবার সকাল থেকে নিজের বাড়িতেই রাখা থাকবে দেশের প্রথম সিডিএস বিপিন রাওয়াতের নিথর দেহ। বেলা ১১ টা থেকে দুপর ২টো অবধি শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন সাধারণ মানুষ। এর পরে কামরাজ মার্গ থেকে শুরু হবে বিপিন রাওয়াতের শেষ যাত্রা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হবে শেষকৃত্য।
গতকাল সেনানায়ক বিপিন রাওয়াতকে শ্রদ্ধা জানাতে রাতেই পালামু বিমানবন্দরে আসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে, নৌসেনা প্রধান অ্যাডমিরাল আর হরি কুমার ও বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল ভিআর চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন বিপিন-মধুলিকার দুই মেয়েও। বিমানবন্দরের বাইরে অসংখ্য মানুষের ভিড় জমে যায়।