দ্য ওয়াল ব্যুরো : গতবছর অক্টোবর মাসে এলজেপির প্রতিষ্ঠাতা রামবিলাস পাসোয়ান মারা যাওয়ার পরে দলের জাতীয় সভাপতির পদটি ছিল তাঁর ছেলে চিরাগ পাসোয়ানের দখলে। কিন্তু সোমবার সকালে তাঁর দলের ছয় সাংসদের মধ্যে পাঁচজনই বিদ্রোহ করেছেন। বিদ্রোহীদের নেতৃত্বে আছেন চিরাগের কাকা পশুপতি কুমার পরশ। তাঁরা চেষ্টা করছেন যাতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পদ থেকে চিরাগকে সরানো যায়। শুধু তাই নয়, দলে চিরাগের আরও যে পদগুলি আছে সবই কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
সোমবার চিরাগ বিদ্রোহীদের সঙ্গে মিটমাটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, তাঁর মা হবেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি। এখন ওই পদটি আছে চিরাগের দখলে। কিন্তু বিদ্রোহীরা তাঁর প্রস্তাবে রাজি হননি। তাঁরা পরশকে নেতা বলে মেনে নিয়েছেন। এদিন চিরাগ নিজে ড্রাইভ করে কাকার বাড়িতে যান। কিন্তু সেখানে এক ঘণ্টা ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করার পরেও কেউ তাঁর সঙ্গে দেখা করেননি। পরশের ছেলে প্রিন্স রাজও বিদ্রোহী এমপিদের অন্যতম। তিনি বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু চিরাগের সঙ্গে দেখা করেননি।
এদি সন্ধ্যায় বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে জানান, চিরাগ আর তাঁদের সংসদীয় দলের নেতা নন। তাঁরা পরশকে নতুন নেতা নির্বাচন করেছেন। স্পিকার এই সিদ্ধান্ত মানতে আপত্তি করেননি।
রামবিলাস পাসোয়ানের মৃত্যুর পর থেকেই কাকার সঙ্গে চিরাগের ঝগড়া শুরু হয়। চিরাগ কাকাকে হুমকি দিয়ে বলেন, তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করবেন। পরশ বলেন, তুমি ধরে নাও তোমার কাকা মারা গিয়েছেন। এরপর থেকে কাকার সঙ্গে কথা বলতেন না চিরাগ। গতবছর বিহারে ভোটের সময় দলের প্রার্থী তালিকা নিয়ে চিরাগ কাকার সঙ্গে আলোচনাও করেননি। তাতে অপমানিত বোধ করেন পরশ।
একটি সূত্রে খবর, হাজিপুরের এমপি পরশকে কেন্দ্রে মন্ত্রী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। মুখ্যমন্ত্রীর দুই অনুগামী মহেশ্বর হাজারি ও লালন সিং এখন এলজেপির অন্যান্য বিদ্রোহী বিধায়কের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। বিদ্রোহীদের মধ্যে প্রিন্স রাজ, চন্দন সিং, বীণা দেবী ও মেহবুব আলি কায়সার কিছুদিনের মধ্যেই বিহারে জেডি ইউ-কে সমর্থন করতে পারেন।
সোমবার পরশ বলেন, "আমাদের দলে ছ'জন সাংসদ আছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন দলকে রক্ষা করতে চেষ্টা করছেন। দলে কোনও ভাঙন হয়নি। আমরা দলকে রক্ষা করেছি।" চিরাগ সম্পর্কে পরশ বলেন, "সে আমার ভাইপো। তার প্রতি আমার কোনও রাগ নেই।" পরে তিনি বলেন, "আমি এনডিএ-তে রয়েছি। নীতীশ কুমার একজন ভাল নেতা। তিনি বিকাশ পুরুষ।"