দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের প্রথম সারির তিন ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা নয়, এ ভ্যাকসিন তৈরি করেছে বেজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস কোম্পানি। এতদিন এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম সামনে আনেনি বেজিং। সম্প্রতি ল্যানসেট মেডিক্যাল জার্নালের রিপোর্ট জানিয়েছে, চিনের তৈরি এই টিকার ট্রায়ালে দারুণ ফল দেখা গেছে। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের তো বটেই আশির বেশি বয়সী স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরেও টিকার ডোজে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।
কী ভ্যাকসিন তৈরি করেছে চিন?
এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের নাম BBIBP-CorV। বেজিং ইনস্টিটিউটের ভাইরোলজিস্টরা জানিয়েছেন, ল্যাবরেটরিতে সার্স-কভ-২ ভাইরাসকে একেবারে নিষ্ক্রিয় করে এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট তৈরি হয়েছে। নিষ্ক্রিয় ভাইরাল স্ট্রেন মানে মানুষের শরীরে তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না। ভাইরাল স্ট্রেন শরীরে ঢুকে বিভাজিত হতেও পারবে না। গবেষক জিয়াওমিং ইয়াং বলেছেন, ভাইরাল স্ট্রেন নিষ্ক্রিয় করার জন্য বিটা-প্রপ্রায়োনোল্যাকটোন নামে বিশেষ ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি, এই টিকার গুণমান বাড়ানোর জন্য মেশানো হয়েছে অ্যাডজুভ্যান্ট বা ইমিউনোমডিউলেটর। অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রক্সাইড নামের অ্যাডজুভ্যান্ট টিকার কার্যকারিতা বাড়িয়েছে বলে দাবি গবেষকদের।
কীভাবে হয়েছে টিকার ট্রায়াল?
গবেষকরা বলছেন, স্বেচ্ছাসেবকদের দুটি দলে ভাগ করা হয়েছিল। ১৮ থেকে ৫৯ বছরের বয়সীদের ৮ মাইক্রোগ্রাম টিকার ডোজ দিয়ে ০ থেকে ২৮ দিনের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। অন্যদিকে, ৬০ বছরের পর থেকে ৮০ বছর অবধি স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দিষ্ট মাত্রায় টিকার দুটি শট দিয়ে ০ থেকে ৪২ দিন অবধি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
দেখা যায়, দুই দলের স্বেচ্ছাসেবকদের শরীরেই পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছ। তবে আশি বছরের বেশি বয়সীদের ৪২ দিন পরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গেই সক্রিয় হয়েছে টি-লিম্ফোসাইট কোষ। গবেষকদের দাবি, টিকার ডোজে সাইটোটক্সিক সিডি৮-পজিটিভ টি কোষ সক্রিয় হয়েছে। এই ধরনের টি-কোষ সংক্রামক প্যাথোজেন সমেত কোষকে নষ্ট করে দিতে পারে।