দ্য ওয়াল ব্যুরো : কিছুদিন আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-এর একটি টিম করোনাভাইরাসের উৎস খুঁজতে গিয়েছিল চিনে। টিমের সদস্যরা উহান শহরের সি ফুড মার্কেটে 'গুরুত্বপূর্ণ সূত্র' পেয়েছেন। হু-এর টিমের সঙ্গে গিয়েছিলেন নিউ ইয়র্কের জুলজিস্ট পিটার ডাসজাক। তিনি বলেন, চিনে তদন্ত করে কী পাওয়া গেল, তার প্রকাশ করার কথা ছিল আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু মনে হচ্ছে, তার আগেই তদন্তের ফল প্রকাশিত হবে।
উহান থেকে ডাসজাক বলেন, হু-এর ১৪ জন বিশেষজ্ঞ চিনের বিজ্ঞানীদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন। তাঁরা কয়েকটি কোভিড হট স্পটে গিয়েছিলেন। সেখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র পেয়েছেন। এখনও পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা, বাদুড়ের শরীর থেকেই প্রথমে এসেছিল সার্স কোভিড টু ভাইরাস। প্রথমে উহান শহরে তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে বিশ্ব জুড়ে অতিমহামারীর সূচনা হয়।
গত শুক্রবার ভারচুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে ডাসজাক বলেন, "আমরা আরও ভালভাবে বুঝতে পারছি, কীভাবে কোভিড ছড়িয়েছিল। আগামী দিনে কীভাবে এই ধরনের অতিমহামারী ঠেকানো যায়, তা নিয়েও চিন্তাভাবনা হচ্ছে। তাহলে আগামী দিনে আর অর্থনীতি ভেঙে পড়বে না। লক্ষ লক্ষ মানুষের মৃত্যুও ঠেকানো যাবে।"
বিশ্ব জুড়ে ১০ কোটি ৫৭ লক্ষ মানুষ কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন ২৩ লক্ষ।
সোমবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১১ হাজার ৮৩১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি, সোমবার, সকাল ৮টা পর্যন্ত ভারতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার ১৯৪ জন।
বুলেটিন জানাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। অর্থাৎ দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০ জন। ভারতে করোনায় মৃত্যুহার ১.৪৩ শতাংশ।
স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিন জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১১ হাজার ৯০৪ জন। ভারতে মোট সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৫০৫ জন। এই মুহূর্তে দেশে সুস্থতার হার ৯৭.২০ শতাংশ। অর্থাৎ এই মুহূর্তে দেশে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৬০৯ জন। মোট আক্রান্তের ১.৩৭ শতাংশ রোগী এই মুহূর্তে অ্যাকটিভ রয়েছেন।
কেবলমাত্র উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কেরল ও মহারাষ্ট্র। কেরলে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা সবথেকে বেশি, ৬৭ হাজার ৯০৩ জন। তারপরে রয়েছে মহারাষ্ট্র। এই রাজ্যে অ্যাকটিভ রোগীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ২১৩ জন। দুই রাজ্য মিলিয়ে মোট অ্যাকটিভ রোগী ১ লাখ ৫ হাজার ১১৬ জন, যা দেশের মোট অ্যাকটিভ রোগীর ৭০.৭৩ শতাংশ। অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সবথেকে বেশি ১০২১ জন অ্যাকটিভ রোগী বেড়েছে মহারাষ্ট্রে। তারপরেই রয়েছে কেরল। এই রাজ্যে ২৪ ঘণ্টায় ১০৮ জন অ্যাকটিভ রোগী বেড়েছে।