
শেষ আপডেট: 29 April 2023 10:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের জন্মহার নিয়ে চিন্তায় দেশের সরকার থেকে রাজনৈতিক পরামর্শদাতারা। একের পর এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিতে এক রকম বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। এ বার অবিবাহিত মেয়েরাও (China Single Mother) যাতে মা হতে পারেন সেই সিদ্ধান্ত নিল চিনা সরকার। জন্মহার বাড়াতে এখন কড়া নিয়ম-নীতিতেও বদল আনছে চিন। সরকারি তরফেই অনুমতি দেওয়া হয়েছে, বিয়ে না করলেও মা হওয়া যাবে আইভিএফ (ইন ভিট্রোফার্টিলাইজেশন/ IVF) পদ্ধতিতে। অবিবাহিত মহিলারাও সিঙ্গল মাদার হতে পারেন। আইনি বাধা থাকবে না।
নানা কারণে অনেক মহিলাই বিয়ের পর সন্তানধারণ করতে চান না। বেশি বয়স পর্যন্ত পুরুষরা প্রজননে সক্ষম হলেও মহিলাদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। তাই চিনে বিবাহিত মহিলাদের ‘আইভিএফ’ চিকিৎসা এবং ডিম্বাণু হিমায়িত করে রাখার অধিকার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অবিবাহিত মেয়েদের জন্য তা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। চিনের ন্যাশনাল হেলথ কমিশন এবার অবিবাহিত মহিলাদেরও আইভিএফে অনুমতি দিয়েছে।
৩ ঘন্টাতেও এল না অ্যাম্বুলেন্স, মায়ের কোলেই মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ল ৬ মাসের সন্তান
ইনভো বায়োসায়েন্সের ডিরেক্টর (বিজনেজ ডেভেলপমেন্ট) ইভ লিপেনস বলছেন, প্রজননক্ষম সময় পেরিয়ে যাওয়ার আগেই যদি অবিবাহিত মেয়েরা ডিম্বাণু হিমায়িত করে রাখতে পারেন, সে ক্ষেত্রে বেশি বয়সে বিয়ে করলেও পরবর্তী সময়ে সন্তানধারণে কোনও সমস্যা হবে না। তাছাড়া চিনে এখন অনেক মহিলাই বিয়ে করে সংসার করতে চাইছেন না। কেরিয়ারের কথা ভেবে বেশিরভাগই অবিবাহিত থাকতেই পছন্দ করছেন। সেক্ষেত্রে যদি অবিবাহিত মহিলারা চান যে মা হবেন, তাহলে তারা আইভিএফের সাহায্য নিতে পারেন। সিঙ্গল মাদারদেরও কর্মক্ষেত্রে হোক বা সামাজিক ক্ষেত্রে, সবরকম সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে।
কিছু দিন আগেই চিনের দু’টি প্রদেশ বিয়ের জন্য নির্ধারিত ছুটির দিন ৩ থেকে বাড়িয়ে ৩০ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্য দিকে, তরুণদের শুক্রাণু দান করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থার তরফে।
উল্কাগতিতে কমছে চিনের জন্মহার (Birth Rates)। ১৯৮০ থেকে ২০১৫ সাল অবধি চিনা সরকারের 'এক সন্তান নীতি' (One-Child Policy) সব তছনছ করে দিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান সংস্থা ‘ন্যাশনাল ব্যুরো স্ট্যাটিস্টিকস' একটি রিপোর্ট সামনে এসেছিল দিনকয়েক আগে। তাতে দেখা গেছে, ২০২২ সালে চিনের জনসংখ্যা গত ৬০ বছরের তুলনায় অনেক কম। এমনকি জন্মহারেও কমতি দেখা গেছে। এর প্রভাব সরাসরি চিনের অর্থনীতির ওপর পড়তে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২২ সালে চিনের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। গত চার দশকে যা সবচেয়ে খারাপ। অবশ্য এই পরিসংখ্যানের নেপথ্যে জনসংখ্যার চেয়ে কোভিডের ভূমিকা বেশি। তবে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই হারে চিনের জনসংখ্যা কমতে শুরু করলে অদূর ভবিষ্যতে এটাই হয়ে উঠবে অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ।