দ্য ওয়াল ব্যুরো : চিনের চতুর্দশ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, আগামী বছর থেকেই তিব্বতে শুরু হবে বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ। রবিবার চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে একথা জানানো হয়। ব্রহ্মপুত্র নদ তিব্বতের ওপরে দিয়ে বয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে ঢুকে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। তিব্বতে পাহাড়ের ওপরে যদি চিন বাঁধ দেয়, তাহলে নীচে ভারতে ও বাংলাদেশে ব্রহ্মপুত্রের জলধারা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ভারত ও চিনের মধ্যে আর একদফা বিরোধ শুরু হতে পারে।
জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বানানোর দায়িত্ব পেয়েছে পাওয়ার কনস্ট্রাকশন কোম্পানি অব চায়না। কোম্পানির চেয়ারম্যান ইয়ান ঝিয়োং বলেন, "তিব্বতে ইয়ারলুং ঝাংবো অদীতে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি করলে আমাদের জলসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার করা সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার হবে।" তিব্বতে ব্রহ্মপুত্রকে ইয়ারলুং ঝাংবো বলা হয়।
ইয়াং সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ২০২১-২৫ সালের পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ওই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০৩৫ সালে। চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সেন্ট্রাল কমিটি প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি করেছে। ইয়াং-এর দাবি, "ইতহাসে ওই প্রকল্পের কোনও তুলনা থাকবে না।"
গালওয়ানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েক মাস ধরে লাদাখে চিন সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। গত ১৫ জুন গালওয়ানে টহলরত ভারতীয় সেনার উপর আচমকা হামলা করে চিনা সেনা। এই হামলায় ২০ ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। পাল্টা মারে চিনের প্রায় ৩৫ জওয়ান নিহত হয় বলে খবর। অবশ্য চিনের তরফে এই সংখ্যা জানানো হয়নি। এরপর থেকে দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তারপর থেকে সেনার উচ্চ পর্যায়ের ও কূটনৈতিক স্তরে প্রচুর বৈঠক হয়েছে। দু’দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরাও বৈঠকে বসেছেন। কিন্তু কোনও সমধান সূত্রে বের হয়নি।
তার মধ্যেই সীমান্তে উত্তাপ ক্রমাগত বাড়ছে। একদিকে যেমন সেনা বাড়াচ্ছে লাল ফৌজ, অন্যদিকে তেমনই সেনা বাড়াচ্ছে ভারতও। শীতেও যাতে সীমান্তে সেনা থাকে তার বন্দোবস্ত করেছে ভারত। নিয়ে যাওয়া হয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্র। এর থেকেই পরিষ্কার চিনের আগ্রাসনের জবাবে চোখে চোখ রেখে দাঁড়িয়ে রয়েছে ভারত।
এরই মধ্যে জানা যায়, ডোকলাম উপত্যকার সিঞ্চে লা পাস থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে মিলিটারি বাঙ্কার বানিয়েছে চিন। উপগ্রহ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গিয়েছে সেই বাঙ্কার। ২০১৭ সালে ডোকলামের ডোক লা অঞ্চলে ভারত ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। সেখান থেকে মাত্র সাত কিলোমিটার দূরে বাঙ্কারের মধ্যে অস্ত্রশস্ত্র জমা করেছে চিন।
জনৈক সামরিক পর্যবেক্ষক বলেছেন, চিন যেভাবে অস্ত্রশস্ত্র জমা রাখার জন্য বাঙ্কার তৈরি করেছে, তাতে বোঝা যায়, ওই অঞ্চলে তারা আরও বেশি সংখ্যক সেনা মোতায়েন করতে চায়। এর ফলে আগামী দিনে ডোকলামে যদি আরও একবার বিরোধ শুরু হয়, চিনারা অনেক বেশি শক্তি নিয়ে লড়তে পারবে। কিছুদিন আগেই জানা গিয়েছিল, ভুটানের সীমান্তের মধ্যে একটি গ্রাম বানিয়ে ফেলেছে চিনারা। তার পরেই চিনাদের অস্ত্রাগারের কথা জানা গেল।