দ্য ওয়াল ব্যুরো: সম্প্রতি বিপদের মাত্রা কমেছে চিনে। করোনা সংক্রমণের প্রকোপ সেখানে থেমেছে বলে ঘোষিত হয়েছে। আর তার পরেই সামনে এল অদ্ভুত এক তথ্য। চিন নাকি প্রচুর পরিমাণে পিপিই অর্থাৎ স্বাস্থ্যকর্মীদের পার্সোনাল প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট বিক্রি করে দিচ্ছে ইতালিকে!
ইতালি যেহেতু এখন করোনার সংক্রমণে বিধ্বস্ত, তাই সেই পিপিই তাদের খুবই জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, চিনকে এই পিপিই-গুলো দিয়েছিল ইতালিই! চিন যখন করোনার সংক্রমণে দিশাহারা, তখন তাকে অনুদান পাঠিয়েছিল সেই দেশ। এখন হিসেব উল্টে গেছে, চিনের অবস্থা সামাল দেওয়া গেলেও বিপদের শিখরে ইতালি। তাই সেই পিপিই তাদের বিক্রি করছে চিন।
এশিয়া নিউজ ইন্টারন্যাশনাল বা এএনআই জানিয়েছে, স্পেকটেটর ম্যাগাজিনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। যদিও চিন দাবি করেছে, তারা নাকি অব্যবহৃত পিপিইগুলো ফের অনুদান হিসেবেই পাঠাচ্ছে ইতালিতে, কিন্তু স্পেকটেটরের অনুসন্ধান বলছে, “চিন তাদের অব্যবহৃত পার্সোনাল প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই) করোনা বিধ্বস্ত ইতালিকে কিনতে বাধ্য করেছে।”
সূত্রের খবর, ইউরোপে যখন করোনা তেমন করে থাবা বসায়নি তখন বেশ কয়েক টন পিপিই চিনকে বাঁচাতে পাঠিয়েছিল ইতালি। মার্চ মাস থেকে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ। বিভিন্ন দেশে করোনার চিকিৎসার সরঞ্জাম ও আরও নানা মেডিক্যাল জিনিসপত্রের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এদিকে চিন ক্রমেই সেরে উঠেছে তার আগে অবধি সারা বিশ্বের সাহায্য পেয়ে। ফলে এবার তার পালা সেই সাহায্য ফিরিয়ে দেওয়ার।
কিন্তু কার্যক্ষেত্রে ঘটছে একটু অন্যরকম। জানা গেছে, ১ মার্চ থেকে মোট ৩.৮৬ বিলিয়ন মাস্ক, ৩৭.৫ মিলিয়ন পিপিই, ১৬ হাজার ভেন্টিলেটর, ২.৮৪ লক্ষ টেস্ট কিট পঞ্চাশটিরও বেশি সংখ্যক দেশে পাঠিয়েছে চিন। কিন্তু সেই দেশগুলির মধ্যে নেদারল্যান্ডস, ফিলিপিন্স, ক্রোয়েশিয়া, টার্কি ও স্পেন অভিযোগ করেছে, যে চিন থেকে নিম্নমানের মেডিক্যাল প্রোডাক্ট পাঠানো হয়েছে।
পাশাপাশিই ইতালির সরকার জানিয়েছে, তাদেরই পাঠানো পিপিই ফের তাদের কাছেই বিক্রি করছে চিন।